গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ভাড়া নিয়ে তর্ক-বির্তকে যাত্রীবাহী তাকওয়া পরিবহনের একটি চলন্ত বাস থেকে ফেলে দিয়ে এক যাত্রীকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার মৌচাক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে ওই চালক ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত হলেন, কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দশদ্রোন এলাকার মৃত সোবহান শেখের ছেলে ইলিয়াস হায়দার শেখ (৩৬)।
এলাকাবাসী, নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস গাজীপুরের চৌরাস্তা থেকে গত সোমবার রাত ১০টার দিকে তাকওয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে উঠেন। তিনি ওই বাসে উঠে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকার এক আত্বীয়ের বাসায় যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ওই বাসের সহযোগী (হেলপার) তুফান নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাড়ার চেয়েও বেশি ভাড়া দাবি করেন।
এ নিয়ে যাত্রী ইলিয়াসের সঙ্গে বাসের চালক মিলন মিয়া ও সহযোগী তুফান মিয়া তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এসময় চালকের সহযোগীর সঙ্গে তার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে বাসটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার মৌচাক বাসষ্টেশন এলাকায় চালকের সহযোগী তাকে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। পরে তারা বাসটি নিয়ে উপজেলার চন্দ্রা এলাকার দিকে চলে যান।
এসময় স্থানীয় গুরুতর আহত অবস্থায় যাত্রী ইলিয়াসকে উদ্ধার করে সফিপুর মর্ডান হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই যাত্রী ইলিয়াসকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশে জানায় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে নাওজোড় হাইওয়ে পুলিশ মঙ্গলবার সকালে তাকওয়া পরিবহনের ওই বাসের চালক মিলন ও তার সহযোগী তুফানকে গ্রেপ্তার ও নিহতের লাশ উদ্ধার করে।
গ্রেপ্তারকৃতদের গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত বাস চালক মিলন মিয়া (২৮) দিনাজপুরের বিরোল উপজেলার গোপালপুর এলাকার মাহমুদ আলীর ছেলে ও তার সহযোগী তুফান মিয়া (২০) রাজশাহীর বোয়ালিা উপজেলার কাদেরগজ্ঞ উপজেলার রুবেল হোসেনের ছেলে।
নিহতের চাচাতো ভাই নাদিম শাহরিয়ার জানান, আমার চাচাতো ভাইকে তাকওয়া পরিবহনের চালক ও হেলপার পরিকল্পিতভাবে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে। আমি আমার চাচাত ভাইয়ের হত্যার বিচার দাবী করছি।
এব্যাপারে নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাওগাতুল আলম জানান,খবর পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে আবেদনের পরিপেক্ষিতে নিহতের লাশ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এ ঘটনায় ওই বাসের চালক ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
