বরগুনার তালতলীতে সংঘটিত হয়েছে একটি হৃদয়বিদারক ও নৃশংস ঘটনা। ভাবিকে গলা কেটে হত্যার এক দশক পর এবার ছয় বছরের ভাতিজি নাহিল আক্তারকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন চাচা হাবিব ওরফে হাবিল খান (২৭)। এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার ইদুপাড়া গ্রামে। রাত ৮টার দিকে শিশুটিকে বরিশাল নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত নাহিল ওই এলাকার দুলাল খানের মেয়ে। ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে স্কুল থেকে ফিরে নাহিল আক্তার বাড়ির সামনের দোকানে বিস্কুট কিনতে যায়। এ সময় তার চাচা হাবিল হঠাৎ পেছন থেকে কাঠের লাঠি দিয়ে শিশুটির মাথা ও হাতে সজোরে আঘাত করে। এতে নাহিল গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। কিন্তু বরিশালে নেওয়ার পথেই শিশুটির মৃত্যু হয়। ঘটনার পর স্থানীয়রা হাবিল খানকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, ২০১৫ সালের আগস্টে হাবিল তার বড় ভাই দুলাল খানের প্রথম স্ত্রী তানিয়া বেগমকে গলা কেটে হত্যা করেছিল। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। শিশু আইনের আওতায় তাকে ৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারাভোগের পর ২০২৪ সালের শুরুতে জামিনে মুক্তি পায় সে। মুক্তির দেড় বছরের মধ্যেই সে আরেকটি হত্যাকাণ্ড ঘটায় এবার নিজের ভাতিজিকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
নিহত নাহিলের বাবা দুলাল খান কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, ‘২০১৫ সালে সে আমার প্রথম স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করেছিল। এখন আমার শিশুকন্যাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমার পুরো পরিবারটাকে ধ্বংস করে দিল। আমার মেয়েটার কী দোষ ছিল যে তাকে এভাবে মারতে হলো?’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘শিশুটি দোকানে যাওয়ার পথে হাবিল পেছন থেকে লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই মেয়েটি পড়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুটির মাথা ও হাতে গুরুতর আঘাত ছিল। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বরিশালে পাঠানো হয়েছিল।’
তালতলী থানার ওসি মোহাম্মদ শাহজালাল জানান, নিহতের বাবা একটি হত্যা মামলা করেছেন। আসামিকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
