আনুষ্ঠানিকভাবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিগত কার্যক্রম শুরু করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর তোপখানা রোডে ফারইস্ট ইন্স্যুরেন্স টাওয়ারের অডিটরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের প্রাথমিকভাবে মনোনীত শতাধিক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে দলটি।
দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের সঞ্চালনায় চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এসময় দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার, ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর কাসেম, অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, বিএম নাজমুল হক, লে. কর্ণেল অব. দিদারুল আলম, লে.কর্নেল অব. হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, আনোয়ার সাদাত টুটুল, এবিএম খালিদ হাসান ব্যারিস্টার সানী আবদুল হক, ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, আলতাফ হোসাইন, শ্যাডো অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সিদ্দিকুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ লোকমান ও আব্দুল বাসেত মারজান।
সংবাদ সম্মেলনে মঞ্জু বলেন, নতুন দল হিসেবে এবারের নির্বাচন এবি পার্টির নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হচ্ছে। আমরা দলীয়ভাবে শতাধিক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করছি। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে এখনো জনমনে সন্দেহ সংশয় কাটছেনা। এবি পার্টি মনে করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এখনো যেভাবে বিভিন্ন বিষয়ে মতভেদ প্রকাশ করছে তাতে অন্তর্বর্তী সরকারকে আরও একটু মজবুত ভূমিকা নেয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আমরা বার বার বলছি সরকার দৃঢ় না হলে, সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব হয়ে পড়বে।
এবি পার্টি আগামী নির্বাচনে কোন জোটে যাবে কিনা এ প্রসঙ্গে সংবাদ কর্মীদের জবাবে তিনি বলেন, দলগতভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবি পার্টি। পাশাপাশি একটি মধ্যপন্থী জোট গঠনের প্রয়াসও চলমান থাকবে। শুধু নির্বাচন কেন্দ্রিক নয় জুলাইয়ের ঐক্য ও অঙ্গীকার রক্ষায় নতুন রাজনৈতিক জোট গড়ে তোলা হবে বলেও তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
কয়েকটি রাজনৈতিক দলের বিভেদ ও পরস্পর কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ির সমলোচনা করে তিনি বলেন, কারও জেদ এবং হটকারিতায় গণতন্ত্রের পথ বিপন্ন হলে ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবেনা। পলাতক ফ্যাসিবাদীর পাশে তাদের নাম লেখা থাকবে।
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, এই সরকার গণঅভ্যুত্থানের সরকার কিন্তু কেউ কেউ এটাকে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের সরকার বলে হেয় করার চেষ্টা করে। মুসলিম লীগ ও আওয়ামী লীগ দুটি দেশের স্বাধীনতার নেতৃত্ব দিলেও রাজনৈতিক ভুলের কারণে ইতিহাসের ভিলেন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাস্তবতা বুঝতে না পারলে আমাদের কারও কারো পরিনতিও সেরকম হবে।
সংবাদ সম্মেলনের আরো উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম) অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম, সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী) সাঈদ নোমান, সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ) অ্যাডভোকেট সানোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল) গাজী নাসির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা) অধ্যক্ষ মো. ইয়ামিনুর রহমান, যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদিউজ্জামান খোকন, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আখতার হোসেন, নারী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফারাহ নাজ সাত্তার, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর) আবু বকর সিদ্দিক, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী) অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা) শাজাহান ব্যাপারী ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম) ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম বাদল প্রমুখ।
