বিচার বিভাগে জেন্ডার সমতা নিশ্চিত হলে আইনি চিন্তা মানবিক হবে: প্রধান বিচারপতি

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৫৯ পিএম

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, বিচার বিভাগে জেন্ডার সমতা নিশ্চিত হলে আইনি চিন্তাভাবনা আরও গভীর ও মানবিক হবে। তিনি আরও বলেছেন, বিচার বিভাগে নারীদের অংশগ্রহণ ন্যায় বিচারের গুনগত উৎকর্ষ ও জনআস্থার বিশেষ প্রতীক। 

আজ থাইল্যান্ডের ব্যাংককে একটি সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। ইউএনডিপি আয়োজিত ‘রিজিওনাল কনভেনিং অন জুডিশিয়াল লিডারশিপ ফর ওমেন জাজেস ইন এশিয়া’ সংক্রান্ত ‘শিফট আন্ডারওয়ে- অ্যাডভান্সিং জেন্ডার অন দ্য বেঞ্চ ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক একটি কনফারেন্সে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে ব্যাংকক অবস্থান করছেন প্রধান বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। 

সেমিনারে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিচার বিভাগে নারীর অংশগ্রহণ কেবল প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন নয়, বরং এটি ন্যায়বিচারের গুণগত উৎকর্ষ  ও জনআস্থার  বিশেষ প্রতীক।

 নারী বিচারকেরা লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি ও পারিবারিক বিরোধের মতো সংবেদনশীল মামলায় মানবিক অন্তদৃষ্টি ও বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে বিচার প্রক্রিয়াকে সমৃদ্ধ করে থাকেন।’ তিনি আরও  বলেন, ‘নারী বিচারকরা ক্ষমতার ভারসাম্য ও মর্যাদার সূক্ষ্ম দিকগুলো অনুধাবন করতে বেশি সক্ষম, যা বিচার ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সংগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলে।’

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের জেলা ও দায়রা আদালতগুলোতে ৬২৫ জন নারী বিচারক কর্মরত থাকলেও উচ্চ আদালতে তাঁদের সংখ্যা মাত্র ১০ শতাংশ। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে ১১৭ জন বিচারকের মধ্যে মাত্র ১২ জন নারী বিচারক রয়েছেন। এছাড়া, বাংলাদেশে  আইন পেশায় নারীর সংখ্যা ১২ শতাংশেরও কম, যা পেশাগত অগ্রগতিতে নারীর সীমিত অংশগ্রহণের ইঙ্গিত বহন করে। 

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে নিয়োগপ্রাপ্ত ২৫ জনের মধ্যে মাত্র ৩ জন নারী বিচারক নিযুক্ত হওয়া প্রমাণ করে যে বাংলাদেশে নারীবান্ধব বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠায় এখনো কিছু  কাঠামোগত ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান রয়েছে। 

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিচার বিভাগে জেন্ডার সমতা নিশ্চিত হলে আইনি  চিন্তভাবনা আরও গভীর ও মানবিক হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নারীর বিচারিক নেতৃত্ব বিকাশে তাদের ভূমিকা নিছক সহায়তা নয়, বরং এটি এক প্রকারের অংশীদারিত্ব।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত