বিজয়নগরে খাবারের হোটেলে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৩০ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে শ্যামলীঘাট এলাকায় নুরে মদিনা হোটেলে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের শ্যামলীঘাট এলাকায় প্রায় ৩৫ বছর ধরে ব্যবসা করছেন মজিদ মিয়া। 

বৃহস্পতিবার সকালে চান্দুরা মোড়ে তার ভাতিজা মোবারক মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের সাহেদ মিয়া, দ্বীন ইসলাম ও আলমগীরের কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে মোবারক মিয়ার চাচা মজিদ মিয়ার নুরে মদিনা হোটেলে গিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলাকারীরা হোটেলে ভাঙচুর চালিয়ে দুপুরের জন্য রান্না করা খাবার, সংরক্ষিত মাছ-মাংস, সবজি, হাঁস, গ্যাস সিলিন্ডার ও বোতলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। 

এছাড়া হোটেলের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং নারী কর্মচারীদের মারধর করে। অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারীরা এক নারী কর্মচারীর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় এবং ক্যাশবাক্সের টাকাও লুট করে। দোকানের ফ্রিজ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জামও ভাঙচুর করা হয়।

হোটেলের স্বত্বাধিকারী মজিদ মিয়া বলেন, “আমি গরিব মানুষ। এই হোটেলটাই ছিল আমার জীবিকার একমাত্র ভরসা। হামলা চালিয়ে সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে তারা।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব চলছে। প্রতিপক্ষ আরজু মিয়া ও বাবুল মিয়ার লোকজন আমার ভাতিজার সঙ্গে ঝগড়ার জেরে আমার দোকানে হামলা চালায়।”

প্রতিপক্ষের আরজু মিয়া মেম্বার বলেন, “উভয়পক্ষের তরুণদের মধ্যে কথা কাটাকাটির পর এক পর্যায়ে দোকানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে আমি এসব ঝামেলার কারণে এখন অন্যত্র বসবাস করছি।”

হোটেল কর্মচারী বানু বেগম বলেন, “দুপুরে ১০-১২ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হোটেলে হামলা চালায়। তারা আমাকে মারধর করে আমার গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। আরও কয়েকজন নারী কর্মচারীকেও তারা পিটিয়েছে।”

আহতদের বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে বিজয়নগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, “জালালপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুপক্ষের বিরোধ চলছে। তারই জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত