আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুঃস্বপ্নের সিরিজ শেষেই ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি বাংলাদেশ। আগামী শনিবার শুরু হতে যাওয়া ওয়ানডে সিরিজের জন্য গতকাল দল ঘোষণা করেছেন নির্বাচকরা। মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের এই দলে প্রথমবার সুযোগ পেয়েছেন মাহিদুল ইসলাম অংকন, ফিরেছেন সৌম্য সরকারও। আর বাদ পড়েছেন নাঈম শেখ এবং নাহিদ রানা।
এর আগে শ্রীলঙ্কা সফরের দলে থাকলেও একাদশে সুযোগ পাননি নাঈম। আমিরাতে সবশেষ আফগানিস্তান সিরিজে মাত্র এক ম্যাচ খেলেছেন। বাজে ব্যাটিংয়ে হয়েছেন সমালোচিত। দেশে ফিরে শুনতে হয়েছে দুয়োধ্বনি। তবে জাকের আলী অনিক সেই এশিয়া কাপ থেকে সাদা বলের দুই ফরম্যাটে ধারাবাহিকভাবে বাজে পারফর্ম করেও দলে টিকে গেছেন। সুযোগ পাওয়া সৌম্য সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন গত ফেব্রুয়ারিতে দুবাইয়ে ভারতের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচে।
আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকার যেহেতু শীর্ষ আটের বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাই ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি সুযোগ পেতে ওই বছরের ৩১ মার্চ ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে শীর্ষ ৯-এর মধ্যে থাকতে হবে। এই হিসাব মেলানোর জন্য অন্তত ২৪টি ম্যাচ হাতে আছে বাংলাদেশের। তিন সংস্করণের মধ্যে নিজেদের ‘সবচেয়ে প্রিয়’ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ২০০৬ সালের পর সর্বনিম্ন দশ। শেষ ১২ ম্যাচের ১১টিতে হার। হার শেষ চারটি সিরিজেও। দলের এই দুরবস্থা নিয়ে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর মত, ‘এমন (আফগানিস্তানের কাছে হোয়াইটওয়াশ) একটা পারফরম্যান্স আমরা যারা ক্রিকেট দেখি, ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত এমনকি যারা খেলেছে আমার মনে হয় কেউই আশা করেনি এমন রেজাল্ট হতে পারে। একদম এক্সপোজড হয়েছে আমাদের দুর্বলতা। বিশেষ করে আমাদের ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা ফুটে উঠেছে। নিয়মিতভাবে ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারছি না। এই আফগানিস্তানের সঙ্গে একদমই হাফ অব দ্য কোটাও ঠিকভাবে খেলতে পারিনি। অবশ্যই, যত দ্রুত সম্ভব আমাদের ওভারকাম করতে হবে। দলের মিডল অর্ডারের প্রায় সবাই রানখরায় আছে। তো সেই জায়গায় আমরা মাহিদুলকে এনেছি। পরের বিশ্বকাপের জন্য কলেবর বৃদ্ধি করতে যারা সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবেন, তার মধ্য থেকে মাহিদুল ইসলামের নামটা নিশ্চয়ই অনেক উজ্জ্বল।’
৭-এ থাকা আফগানদের বিপক্ষে ওই সিরিজটি জিততে পারলে রেটিংয়ে বেশ উন্নতি হতো। তবে সেটি না হয়ে ঘটেছে পুরো উল্টোটা। শেষ ম্যাচে ২০১৮ সালের পর প্রথমবার ১০০-এর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জা পেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে এই সিরিজ খেলেই ৯-এ ফেরার সুযোগ আছে বাংলাদেশের। সেটি করতে হলে তিন ম্যাচের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধবলধোলাই করতে হবে। ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে ৭৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ আছে ১০-এ। ৯-এ থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট ৮০। সিরিজটি ৩-০ ব্যবধানে জিতলে বাংলাদেশের পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়াবে ৭৮, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট কমে হবে ৭৬। আশাবাদী প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘আমাদের প্রতিপক্ষ এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আমরা আবুধাবির সেই পিচেও খেলছি না। ঘরের মাঠে মিরপুরের উইকেটে খেলছি এবং প্রতিপক্ষেও রশিদের মতো কিংবা অন্যান্য স্পিনার যারা ছিল উঁচুমানের সে রকম স্পিনারদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। এটা আমাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির। তবে কষ্টটা এখনো বয়ে বেড়াতে হচ্ছে খেলোয়াড়দের।’
