ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে গরু চোর সন্দেহে তিন বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে ঢাকা এ ঘটনাকে ‘জঘন্য ও মানবাধিকারবিরোধী’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “এই ধরনের নৃশংস ও অমানবিক ঘটনা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এটি মানবাধিকার ও আইনের শাসনের গুরুতর লঙ্ঘন।”
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জসওয়াল এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের অভিযোগ নাকচ করে বলেন, নিহত তিনজন ‘গরু চোরাচালানকারী ও দুর্বৃত্ত’। তাঁর দাবি, “১৫ অক্টোবর রাতে ত্রিপুরার বিদ্যাবিল গ্রামে ঘটনাটি ঘটে, যা ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় তিন কিলোমিটার ভেতরে।”
জসওয়াল বলেন, “বাংলাদেশ থেকে একদল দুর্বৃত্ত আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভেতরে প্রবেশ করে গরু চুরির চেষ্টা করে। এ সময় তারা স্থানীয়দের ওপর লোহার দা ও ছুরি দিয়ে হামলা চালায় এবং এক গ্রামবাসীকে হত্যা করে। পরে অন্য গ্রামবাসীরা তাদের আটক করে গণপিটুনি দেয়।”
ভারতীয় মুখপাত্র আরও মন্তব্য করেন, “এই ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় যে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও অপরাধ দমনে বাংলাদেশ সরকারের উচিত আন্তর্জাতিক সীমান্তের অখণ্ডতা রক্ষা করা এবং যেখানে প্রয়োজন, সেখানে বেড়া বা কাঁটাতার নির্মাণে সহযোগিতা করা।”
অন্যদিকে, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ত্রিপুরার খোয়াই জেলার কারেঙ্গিছড়া এলাকায় স্থানীয়দের হাতে তিন বাংলাদেশি নিহত হন। সেদিন সন্ধ্যায় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ নিহতদের মরদেহ চুনারুঘাট উপজেলার কেদারাঘাট সীমান্ত দিয়ে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় আবারও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সীমান্তে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড শুধু মানবিক সংকটই নয়, বরং দুই দেশের আস্থার সম্পর্ককেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সূত্র: দ্য উইক
