এক সপ্তাহে গড়াল আন্দোলন, পতাকা মিছিল শিক্ষকদের

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:২৪ এএম

বাড়িভাড়া বাড়ানোসহ তিন দফা দাবিতে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আন্দোলন গড়াল এক সপ্তাহে। গত ১২ অক্টোবর থেকে ঢাকায় আন্দোলন করছেন শিক্ষকরা। এরই অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার দুপুরে কালো পতাকা নিয়ে মিছিল করেন শিক্ষকরা। এর আগে গত শুক্রবার দুপুর থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন তারা। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি ও অন্যান্য কর্মসূচিও চলছে।

গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কালো পতাকা মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি দোয়েল চত্বর হয়ে কদম ফোয়ারা চত্বরে আসে। সেখানে তারা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এতে হাজারো শিক্ষক-কর্মচারী অংশ নেন। এ সময় তারা ‘সি আর আবরার, আর নয় দরকার’, ‘রাজপথে কে রাজপথে কে, শিক্ষক শিক্ষক’, ‘ছাত্র-শিক্ষক-জনতা, গড়ে তোলো একতা’, ‘সারা বাংলার শিক্ষক, এক হও লড়াই করো’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।

কদম ফোয়ারায় গতকাল বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি বলেন, শিক্ষকরা কোনো দুর্নীতি করেন না, দুর্নীতি করেন আমলারা। আমলাদের গাড়ি বাড়িসহ যাবতীয় সুবিধা রয়েছে। আর শিক্ষকরা সামান্য অধিকার আদায়ে প্রচ- গরমে রাস্তায় আন্দোলন করছেন। এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।

গণ অধিকার পরিষদের অবস্থান তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, তারা মনে করেন, আমলাদের চেয়ে শিক্ষকদের বেতন বেশি হওয়া উচিত। শিক্ষকদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত গণ অধিকার পরিষদ তাদের পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।

রাশেদ খান আরও বলেন, আপনাদের সঙ্গে ওই সচিবালয় ঘেরাও করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। আপনাদের দাবি আদায় করতে যদি যমুনা ঘেরাও করতে হয়, গণ অধিকার পরিষদ আপনাদের সব সহযোগিতা করবে।

শিক্ষকরা বিদ্রোহী হলে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না : বিক্ষোভ সমাবেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলার কোনো চিন্তা আমাদের নেই। আমাদের কর্মসূচির ধরন দেখে আপনারা সেটা বুঝতে পারছেন। কিন্তু সরকারের প্রতি এই সহযোগিতাকে যদি দুর্বলতা মনে করা হয়, আর শিক্ষকরা যদি বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন, তাহলে প্রশাসনকে বলতে চাই, আপনার কোনো বাহিনী দিয়ে এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।

দেলাওয়ার হোসেন আজিজী আরও বলেন, তারা মৃত্যুর শপথ নিয়ে শহীদ মিনারে এসেছেন। ২০ শতাংশ মানে, ২০ শতাংশ। ১ হাজার ৫০০ টাকা মানে, ১ হাজার ৫০০ টাকা। ৭৫ শতাংশ মানে, ৭৫ শতাংশ। কোনো টালবাহানা চলবে না।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, বিগত সময়ে অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অর্থের বিনিময়ে এমপিওভুক্তি নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, যদি তারা টাকার মাধ্যমে এমপিওভুক্তি নেয়, তাহলে কোন কোন আমলা টাকা খেয়ে এই এমপিওভুক্তি দিয়েছেন, তাদের অবিলম্বে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

শিক্ষকদের আন্দোলনে সমর্থন বিএনপির : শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন ও দাবির পক্ষে সমর্থন জানিয়ে অপচেষ্টা প্রতিহতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত। তবে এই আন্দোলনকে পুঁজি করে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে অপচেষ্টা চালালে তা প্রতিহত করা হবে। শনিবার বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. তাইফুর ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত প্রেস বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।

দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরাতে মির্জা ফখরুল ইসলাম জানান, দেশের একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত। সহজভাবে শিক্ষকদের জন্য তাদের অঙ্গীকার হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা, শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সামাজিক মর্যাদা ও তাদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।

বিএনপি বিশ্বাস করে রাষ্ট্র ও জাতির সাংগঠনিক কিংবা নাগরিক উন্নয়নে যত উদ্যোগই গ্রহণ করি না কেন, শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন এবং শিক্ষকদের অর্থনৈতিক, সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা না গেলে কাক্সিক্ষত সফলতা পাওয়া যাবে না।

জনগণের ভোটে বিএনপি আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে রাষ্ট্রের আর্থিক অনুকূলতা শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, চাকরির স্থায়ীকরণ এবং সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনার বিষয়ে বিএনপির কোনো দ্বিমত নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত