ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:১৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিক্ষোভ। স্থানীয় সময় শনিবার বেলা ১১টা থেকে নিউইয়র্ক সিটিতে ‘নো কিংস’ নামে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়, যা অল্প সময়ের মধ্যেই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি ইউরোপের কয়েকটি বড় শহরেও সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ৫০০টিরও বেশি স্থানে বিক্ষোভের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। লাখো মানুষ এতে অংশ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

আয়োজকদের দাবি, ট্রাম্পের ‘স্বৈরাচারী মনোভাব ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে’ গণআন্দোলন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেই এই কর্মসূচি। তাদের ওয়েবসাইটে লেখা রয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট নিজেকে সর্বেসর্বা ভাবছেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে কোনো রাজা নেই। আমরা বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে সব সময় আওয়াজ তুলব।’

ট্রাম্পবিরোধী এই আন্দোলনের ঢেউ ইতোমধ্যে ইউরোপেও পৌঁছেছে। সংহতি জানাতে জার্মানির বার্লিন, স্পেনের মাদ্রিদ এবং ইতালির রোমে একই ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এই বিক্ষোভে বামপন্থি সংগঠন অ্যান্টিফা জড়িত। যদিও এর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কয়েকটি রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। টেক্সাস ও ভার্জিনিয়ার গভর্নররা ইতোমধ্যে তাদের রাজ্যে ন্যাশনাল গার্ড সক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছেন, যদিও সামরিক উপস্থিতি কতটা দৃশ্যমান হবে, তা স্পষ্ট নয়।

টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট বিবিসিকে বলেন, ‘অ্যান্টিফা-সম্পৃক্ত বিক্ষোভের আশঙ্কায় অস্টিনে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।’ তার এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন রাজ্যের ডেমোক্রেটিক নেতা জিন উ। 

তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমন করতে সশস্ত্র বাহিনী পাঠানো রাজা বা স্বৈরশাসকের কাজ। গ্রেগ অ্যাবট আজ প্রমাণ করলেন, তিনিও তাদের একজন।’

একইভাবে ভার্জিনিয়ার গভর্নর গ্লেন ইয়ংকিন ও রাজ্যের ন্যাশনাল গার্ড সক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দু ওয়াশিংটন ডিসি, যেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নিয়েছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। পাশাপাশি লস অ্যাঞ্জেলস ও বড় আকারের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিক্ষোভের আগেই ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা আমাকে রাজা বলে ডাকছে, কিন্তু আমি কোনো রাজা নই।’ তবে রিপাবলিকানদের একাংশ এই আন্দোলনকে ‘হেইট আমেরিকা র‍্যালি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। কানসাসের সিনেটর রজার মার্শাল বলেন, ‘আমাদের হয়তো ন্যাশনাল গার্ড নামাতে হবে। আশা করি বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকবে, তবে সে বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে।’

‘নো কিংস’ আন্দোলনের বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন বেশ কয়েকজন খ্যাতনামা তারকা। তাদের মধ্যে আছেন অভিনেত্রী জেন ফন্ডা, কেরি ওয়াশিংটন, সংগীতশিল্পী জন লেজেন্ড, অভিনেতা অ্যালান কামিং এবং জন লেগুইজামো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত