বিশ্বকে যদি একটি উত্তাল সমুদ্রের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তাহলে ঢেউগুলো আছড়ে পড়ছে বিভিন্ন দেশে। কোথাও যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট বা অভ্যন্তরীণ সংঘাতরূপে। এমন অস্থিরতার মূলে তিনটি প্রধান চালিকাশক্তি কাজ করছে যুদ্ধ, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং ক্ষমতার লড়াই। এগুলো একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি জটিল জালের মতো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যে যুদ্ধ ও সংঘাত চলছে, তা কেবল ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি, রাজনীতি এবং মানবিকতার ওপর পড়ছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, ভারত-পাকিস্তান সংঘাত, আফগানিস্তান-পাকিস্তান যুদ্ধ, আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের গৃহযুদ্ধ এসব সেই অস্থিরতার প্রধান কারণ। আধুনিক যুদ্ধগুলো প্রায়ই প্রক্সি যুদ্ধ, যেখানে শক্তিশালী দেশগুলো সরাসরি অংশগ্রহণ না করে ছোট বা দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে ব্যবহার করে নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করছে। ফলস্বরূপ দেশগুলোর অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং ফলে অনিবার্যভাবে মানবিক সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হয়, যা মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক মন্দার জন্ম দেয়। এই সংঘাতগুলো কেবল অস্ত্রের লড়াই নয়, বরং এক প্রকার আদর্শিক ও ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা। ক্ষমতার এই প্রতিযোগিতা ছোট দেশগুলোকে বলির পাঁঠা বানায়।
এমন যুদ্ধের দাবানলকে আরও উসকে দিচ্ছে অর্থনৈতিক বৈষম্য। বিশ্ব জুড়ে ধনী এবং দরিদ্রের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ কেন্দ্রীভূত হওয়া এবং বেশিরভাগ মানুষের দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত হওয়ার এই চিত্র অস্থিরতার অন্যতম প্রধান কারণ। ধনী দেশগুলো প্রযুক্তি, শিক্ষা, এবং স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে যে সুবিধা ভোগ করে, তা দরিদ্র দেশগুলোর নাগালের বাইরে থাকে। এই ধরনের অর্থনৈতিক অসাম্য জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দেয়। যা প্রায়ই সামাজিক অস্থিরতা, বিক্ষোভ এবং এমনকি চরমপন্থার দিকে চালিত করে। অর্থনৈতিক বৈষম্য অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জন্ম দেয়, কারণ সম্পদ ও সুযোগের সীমিত বণ্টন বিভিন্ন গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি করে। প্রকৃত সত্য যে, সবকিছুকে চালিত করছে ক্ষমতার লড়াই। এটি কেবল রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নয়, বরং বৃহৎ শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিশ্বব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার নিরন্তর প্রতিযোগিতা। স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের পর বিশ্ব একমেরুকেন্দ্রিক হওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বর্তমানে চীন, ভারত, রাশিয়া এবং আমেরিকার মতো শক্তির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এই প্রতিযোগিতা সামরিক, অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত সব ক্ষেত্রে রয়েছে। আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক আধিপত্য বিস্তার করার এই প্রচেষ্টা অন্য রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। ক্ষমতার নেশা সামরিকীকরণ বৃদ্ধি করে এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে ত্বরান্বিত করে, যা বিশ্বের প্রতিটি কোণে অস্থিরতা ও অনিরাপত্তার অনুভূতি ছড়িয়ে দেয়। বহুজাতিক করপোরেশনগুলোও এ ক্ষমতার লড়াইয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতা প্রায়ই ছোট রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করে। তারা প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, শ্রম শোষণ এবং বাজারের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাদের মুনাফার তাড়না পরিবেশগত বিপর্যয় এবং শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘনের দিকে নিয়ে যায়, যা সামাজিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
প্রযুক্তির অগ্রগতি একসময় মানবজাতির আশার আলো ছিল। কিন্তু ক্ষমতার লড়াই এবং বৈষম্য নতুন মাত্রা পেয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার প্রযুক্তি এবং তথ্যপ্রযুক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতা এখন বিশ্বশক্তির কেন্দ্রে। সুতরাং, প্রযুক্তির বৈষম্য ‘ডিজিটাল ডিভাইড’ তৈরি করেছে, যেখানে একদলের কাছে রয়েছে অসীম তথ্য ও সুযোগ, আর আরেক দল এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই অসমতা রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার অর্থনৈতিক ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং সাইবার যুদ্ধ নতুন ধরনের প্রক্সি সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। তথ্য ও প্রোপাগান্ডার যুদ্ধও অস্থিরতার অন্যতম কারণ। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস ও বিভেদ সৃষ্টি করে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দেয়। প্রযুক্তির অগ্রগতিকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার লড়াইয়ের আরেকটি নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, যা হলে জ্ঞান ও তথ্যের নিয়ন্ত্রণ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমগুলো এখন কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং তা জনমত গঠনে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির একটি প্রধান হাতিয়ার। ফেক নিউজ, ডিসইনফরমেশন এবং প্রোপাগান্ডার দ্রুত বিস্তার সমাজের মধ্যে গোষ্ঠীগত বিভেদ, জাতিগত বিদ্বেষ ও রাজনৈতিক মেরুকরণকে তীব্র করে তুলছে। এই তথ্যযুদ্ধ রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরে জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা কমিয়ে দেয় এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর তাদের বিশ্বাসকে দুর্বল করে। যখন মানুষ সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করতে পারে না, তখন তারা সহজেই উগ্রবাদী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী ধারণার শিকার হয়। বিশ্বশক্তিগুলো এখন সামরিক আক্রমণের পাশাপাশি এই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধকেও তাদের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে যা বিশ্ব জুড়ে সামাজিক সংহতি এবং স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতা এবং সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদও বিশ্ব অস্থিরতার আরেকটি নীরব অনুঘটক। অনেক রাষ্ট্রে দূরদর্শী ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। সংকীর্ণ মানসিকতা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সহাবস্থানের ধারণাকে দুর্বল করে দেয়। ‘আমার দেশ প্রথম’ জাতীয়তাবাদ আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতি অশ্রদ্ধা, বাণিজ্য যুদ্ধের উত্থান এবং সীমান্ত সংঘাতকে উসকে দেয়। এই নেতৃত্বজনিত দুর্বলতা বৈশ্বিক সমস্যা যেমন জলবায়ু পরিবর্তন বা মহামারী মোকাবিলার সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়। মানবিক কারণগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও লুণ্ঠনের প্রবণতা। বিশ্বের অনেক সংঘাতের মূল কারণই হলো খনিজ তেল, গ্যাস, মূল্যবান ধাতু বা পানির মতো সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। এই সম্পদ প্রায়ই এমন অঞ্চলে পাওয়া যায়, যেখানে রাজনৈতিক কাঠামো দুর্বল অথবা বহুজাতিক সংস্থাগুলোর প্রভাব বেশি। ক্ষমতার লড়াইয়ে লিপ্ত পক্ষগুলো এই সম্পদ আহরণ এবং বিক্রির মাধ্যমে যুদ্ধ পরিচালনার অর্থ জোগায়, যা সংঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে। সম্পদ-কেন্দ্রিক এই লোভ স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বাস্তুচ্যুত, পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি এবং বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দেয়।
অস্থিরতার মূলে গভীরভাবে প্রোথিত রয়েছে ঐতিহাসিক অবিচার এবং ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার। অনেক উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের বর্তমান সীমান্ত, দুর্বল অর্থনৈতিক কাঠামো এবং অভ্যন্তরীণ জাতিগত বা ধর্মীয় সংঘাতের বীজ রোপিত হয়েছিল ঔপনিবেশিক শাসনকালে। উপনিবেশবাদী শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে কৃত্রিমভাবে সীমান্ত টেনেছিল, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছিল। যদিও উপনিবেশের সমাপ্তি ঘটেছে, তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব আজও বিদ্যমান। সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি এবং তাদের উত্তরসূরি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়শই নতুন রূপে তাদের প্রভাব বজায় রাখতে চায়, যা নব্য-ঔপনিবেশিকতা নামে পরিচিত। এই ঐতিহাসিক দায়ভার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গভীর অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাগুলো বিভিন্ন দেশে অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে, যেখানে স্বৈরতান্ত্রিক বা কর্র্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থাগুলো নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে। এই কর্র্তৃত্ববাদী প্রবণতা প্রায়ই মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দমন করে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করে ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি অসহিষ্ণুতা দেখায়। যখন জনগণের বৈধ চাহিদা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়, তখন হতাশা ও চরমপন্থাকে উসকে দেয়। এই চরমপন্থা কেবল ধর্মীয় বা আদর্শিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বঞ্চনার ফলস্বরূপও জন্ম নিতে পারে। গণতন্ত্রের দুর্বলতা এবং মতাদর্শিক রাজনৈতিক মেরূকরণ অস্থিতিশীলতার চক্রকে আরও জটিল করে তোলে। পাশাপাশি, পরিবেশগত সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তন এই অস্থিরতার অন্যতম ভবিষ্যৎ নির্ধারক হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। যদিও যুদ্ধ বা ক্ষমতার লড়াইয়ের মতো এটি সরাসরি কারণ নয়, কিন্তু এটি অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সংঘাতের তীব্রতাকে বহুলাংশে বাড়িয়ে দিচ্ছে। খরা, বন্যা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাবৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অভাবের কারণে লাখ লাখ মানুষ ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে, যা জলবায়ু শরণার্থী নামক একটি নতুন মানবিক সংকটের জন্ম দিচ্ছে। এই ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি গন্তব্য দেশগুলোতে সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সামাজিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। দুর্বল ও দরিদ্র দেশগুলোই জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি শিকার।
বিশ্ব অস্থিরতার আরেকটি ক্রমবর্ধমান কারণ হলো, সাইবার-সুরক্ষা দুর্বলতা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ বিস্তার। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা প্রযুক্তি নির্ভর হওয়ায়, বিভিন্ন পক্ষ এখন সাইবার আক্রমণকে একটি নতুন যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মাদক পাচার, মানব পাচার এবং অর্থ পাচারের মতো সংগঠিত আন্তঃসীমান্ত অপরাধগুলো দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনীতির ভিত্তি নড়িয়ে দেয়। এই অপরাধী নেটওয়ার্কগুলো প্রায়ই যুদ্ধ বা সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম চালায়, দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে এবং ক্ষমতার লড়াইয়ে লিপ্ত পক্ষগুলোকে অর্থ সরবরাহ করে। এখন যুদ্ধ, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং ক্ষমতার লড়াই পরস্পরকে শক্তিশালী করে একটি দুষ্টচক্র সৃষ্টি করেছে। ক্ষমতার লড়াই প্রায়ই যুদ্ধের জন্ম দেয় এবং এটি অনিবার্যভাবে অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে তোলে। আবার চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য অসন্তোষের জন্ম দেয়, যা নতুন করে ক্ষমতার লড়াই বা অভ্যন্তরীণ সংঘাতের মঞ্চ তৈরি করে। সুতরাং, বিশ্ব অস্থিরতার নেপথ্যে একক কোনো কারণ নেই। এটি একটি বহুস্তরীয় এবং আন্তঃসংযুক্ত সমস্যা। যতদিন পর্যন্ত ক্ষমতা শুধু আধিপত্য ও শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে, অর্থনৈতিক সম্পদ মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকবে এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতগুলো আলোচনার পরিবর্তে অস্ত্রের মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করবে ততদিন বিশ্ব অস্থির থাকবে। এই জটিল পরিস্থিতি সমাধানের জন্য প্রয়োজন, একটি বৈশ্বিক সম্পদ বণ্টনের নৈতিক চুক্তি।
অস্থিরতার মূল কারণ অনুসন্ধানে শিক্ষা এবং মানবিক বিনিয়োগের অভাবকে উপেক্ষা করা যায় না। বিশ্বের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে ক্ষমতার লড়াইকে ‘শূন্য-সমষ্টির খেলা’ হিসেবে দেখা বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজন একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি যেখানে নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং ন্যায্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে। আন্তর্জাতিক আইনের শাসনকে শক্তিশালী করা এবং জাতিসংঘসহ বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর করে তোলা অপরিহার্য। বিশেষত বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে কেবল পাশবিক ক্ষমতার প্রতিযোগিতার পরিবতের্, গঠনমূলক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে যুদ্ধ ও বৈষম্যের মূল কারণগুলোকে মোকাবিলা করা সম্ভব। তাই ক্ষমতার লড়াইয়ের চেয়ে, শান্তি ও মানবিক উন্নয়নের প্রতি আন্তর্জাতিক দায়বব্ধতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
লেখক: গবেষক ও কলাম লেখক সিইও, ইটিসি ইভেন্টস লিমিটেড
