বাবা গেলেন মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে, ‘ভাল স্কুলে’ পড়ার স্বপ্ন মেয়ের

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৯ পিএম

বরিশালের উজিরপুরের বামরাইল এলাকার অনিক সরদারকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত করতে একটি বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে স্বামী স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন—এমন আশায় দিন কাটছে স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউসের। তবে দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে ভবিষ্যৎ কীভাবে সামলাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় তিনি।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে ‘দেশ রূপান্তর’-এর ডিজিটাল মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশের পর ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, অনিককে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং তাঁর ছোট মেয়ে তুবা তাঁকে খাবার খাওয়াচ্ছে। দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশ-বিদেশের অনেক মানুষের নজরে আসে পরিবারটি।

ঘটনার পর টানা কয়েক দিন স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনিকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেন। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে অনিককে বরিশালের নিউ লাইফ নামের একটি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

৩০ সেপ্টেম্বর সকালে বামরাইল গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, স্বামীকে নিয়ে মানসিকভাবে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন জান্নাতুল ফেরদাউস। তিনি জানান, অনিকের সঙ্গে বিয়ের পর নিজের পরিবারের কাছ থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে স্বামী ও দুই কন্যাসন্তানই তাঁর সবচেয়ে কাছের মানুষ।

এইচএসসি পাস জান্নাতুল এখন শ্বশুরের ভিটায় দুই মেয়েকে নিয়ে থাকেন। পরিবারে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ নেই। অনিক মাঝেমধ্যে দিনমজুরের কাজ করলেও অভাব-অনটন তাদের নিত্যসঙ্গী। তবে পরিস্থিতির কাছে হার মানতে চান না জান্নাতুল। সহায়তা পেলে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান তিনি।

অন্যদিকে, ছোট্ট তুবার স্বপ্নও থেমে নেই। বাবার প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করা তুবা ভালো একটি স্কুলে পড়তে চায়। ভবিষ্যতে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন তার। একই সঙ্গে তার প্রত্যাশা, তার বাবার মতো আর কোনো মানুষ যেন প্রকাশ্যে হেনস্তার শিকার না হন।

বাবার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা বলতে গিয়ে তুবা জানায়, অনেক মানুষের সামনে তার বাবাকে হেনস্তা করা হয়েছিল। সে সেখানে না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত বলেও জানায় সে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার দুপুরে মুচলেকা নিয়ে অনিককে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিবারটি বিভিন্ন মানুষের সহানুভূতি ও সহযোগিতা পাচ্ছে।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)  মো. আলী সুজা জানান, বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচিত হওয়ার পর তিনি একাধিকবার ওই পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। সরকারি উদ্যোগে পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। তুবার প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে পরিবারটির পরিস্থিতি বদলে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত