পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষম তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন। এর ফলে পার্বতীপুরসহ উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় বিদ্যুৎহীনতা ও লো-ভোল্টেজের সমস্যায় পড়েছে সাধারণ মানুষ।
গত রবিবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে ১৬ অক্টোবর সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে গর্ভনার ভালভ স্টিম সেন্সরের চারটি টারবাইন নষ্ট হয়ে ২৭৫ মেগাওয়াটের তৃতীয় ইউনিটের উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যায়। দ্বিতীয় ইউনিটটি সংস্কারের জন্য ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ওভারহোলিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “ত্রুটির কারণে কেন্দ্রের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিট উৎপাদনে ফিরতে পারছে না। সচল করার চেষ্টা চলছে, তবে এক সপ্তাহের আগে উৎপাদনে ফেরা সম্ভব নয়।”
জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও উত্তরাঞ্চলের চাহিদা পূরণে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমানে সরবরাহ ঘাটতির কারণে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ঘনঘন লোডশেডিং দেখা দিয়েছে।
দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–২-এর পার্বতীপুর জোনাল কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জহুরুল হক বলেন, “কেন্দ্র বন্ধ থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। আমার জোনে প্রতিদিনের চাহিদা ১৮ মেগাওয়াট, কিন্তু এখন মাত্র ৬–৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছি। এতে প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েছেন। ভোল্টেজও অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।”
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) পার্বতীপুর কার্যালয় জানিয়েছে, শহরে বিদ্যুতের চাহিদা ৬–৭ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩–৪ মেগাওয়াট। ফলে নেসকোর আওতাধীন প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক চরম লোডশেডিংয়ে ভুগছেন।
প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, “বর্তমানে কেন্দ্রের প্রথম ও তৃতীয় ইউনিটে মেরামতের কাজ চলছে। দুটি ইউনিট চালু হলে এ অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেকটাই কমে আসবে। আশা করছি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে উৎপাদন আংশিকভাবে পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।”
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট তৃতীয় ইউনিট থেকে প্রতিদিন ১৪০–১৫০ মেগাওয়াট এবং ১২৫ মেগাওয়াট প্রথম ইউনিট থেকে ৪০–৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। তিনটি ইউনিট চালু রাখতে দৈনিক প্রায় ৫ হাজার ২০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হয়। বর্তমানে কেন্দ্রটি বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সরবরাহের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল, যেখানে বর্তমানে প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা মজুত রয়েছে।
এদিকে তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ থাকায় তীব্র গরমে (৩২–৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পল্লী এলাকার গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ঢাকাস্থ ইইউ ডেপুটি চিফের সঙ্গে জামায়াতের মহিলা প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ