হাসপাতালে আরও ১০৮

দীপাবলিতে ‘কার্বাইড গান’ খেলতে গিয়ে অন্ধ ১৪ শিশু

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৫৯ পিএম

ভারতের মধ্যপ্রদেশে দীপাবলি উপলক্ষে ‘কার্বাইড গান’ খেলতে গিয়ে ১৪ জন শিশু স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। এছাড়া মাত্র তিনদিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২২ জনেরও বেশি শিশু। তাদের সবারই চোখের আঘাত গুরুতর। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতি দীপাবলিতে আতশবাজির নতুন ট্রেন্ড দেখা যায়। কিন্তু এবার উৎসবের উন্মাদনা পরিণত হয়েছে ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্নে। ‘কার্বাইড গান’ নামের স্থানীয় একটি খেলনা শিশুদের মধ্যে জনপ্রিয় হলেও অভিভাবক ও চিকিৎসকদের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা বিদিশা। সেখানে সরকারি নিষেধাজ্ঞা (১৮ অক্টোবর) থাকা সত্ত্বেও খোলাখুলি বিক্রি হয়েছে এসব কার্বাইড গান। ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হওয়া এসব অস্থায়ী ডিভাইস দেখতে খেলনার মতো হলেও বিস্ফোরণের শক্তিতে ছোট বোমার মতো কাজ করে।

নেহা (১৭) বর্তমানে হামিদিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, আমরা বাড়িতে তৈরি একটা কার্বাইড গান কিনেছিলাম। সেটা ফাটতেই আমার এক চোখ পুরো পুড়ে যায়। এখন কিছুই দেখতে পাই না।

আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও দেখে বাড়িতেই একটা ফায়ারক্র্যাকার গান বানিয়েছিলাম। সেটা মুখের সামনে ফেটে যায়… আর আমি এক চোখ হারাই।

বিদিশা পুলিশ ইতিমধ্যে অবৈধভাবে এই ডিভাইস বিক্রির অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে। ইনস্পেক্টর আর. কে. মিশ্র বলেন, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যারা এসব কার্বাইড গান বিক্রি বা প্রচার করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, ভোপাল, ইন্দোর, জবলপুর ও গ্বালিয়রের হাসপাতালগুলো এখন আহত শিশুতে ভরে গেছে। শুধু ভোপালের হামিদিয়া হাসপাতালেই গত ৭২ ঘণ্টায় ২৬ শিশু ভর্তি হয়।

চিকিৎসকরা অভিভাবকদের স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন এটি কোনো খেলনা নয়, বরং একটি বিপজ্জনক বিস্ফোরক। হামিদিয়া হাসপাতালের সিএমএইচও ড. মানীশ শর্মা বলেন, এই যন্ত্র সরাসরি চোখের ক্ষতি করে। বিস্ফোরণের সময় ধাতব কণা ও কার্বাইড বাষ্প ছিটকে গিয়ে রেটিনা পুড়িয়ে দেয়। অনেক শিশুর চোখের মণি ফেটে গেছে, ফলে স্থায়ী অন্ধত্ব এসেছে। কয়েকজন রোগীকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে, এবং অনেকেরই দৃষ্টি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

উল্লেখ্য, এই প্রাণঘাতী প্রবণতার পেছনে ইনস্টাগ্রাম রিলস ও ইউটিউব শর্টসের একটি ভূমিকা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত