সিরাজগঞ্জে ঘুমন্ত দাদিকে শিরশ্ছেদ করে হত্যা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৫৪ এএম

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা ও সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চকবরুভেংড়ী গ্রামে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা দাদি মোছা. সন্দেশ বেগমকে (৮৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে নাতি সজীব আলী মোল্লা (২২)। গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সন্দেশ খাতুন ওই গ্রামের মৃত নওশের মোল্লার স্ত্রী।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে আইয়ুব আলী বাদী হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সজীবকে একমাত্র আসামি করে সলঙ্গা থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ নাতি সজীব মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে।   এ লোমহর্ষক হত্যার ঘটনায় এলাকার মানুষ হতবিহ্বল হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী নিহতের ছোট ছেলে আইয়ুব আলী জানান, বুধবার রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে তার মা তৃতীয় ছেলে আহাম্মদ মোল্লার একতলা বাড়ির একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। তার শয়নকক্ষের পাশের কক্ষে থাকে আহাম্মদ মোল্লার ছেলে সজীব। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সজীব গরু জবাই করা ধারালো একটি বড় ছুরি হাতে দাদির কক্ষে ঢোকে। এরপর তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে জানতে চায়, ‘তোমার রব কে’। বৃদ্ধা দাদি এর উত্তর বলতে না পাড়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে সে চিৎকার করে বলতে থাকে ‘তাহলে তো তোমাকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে না’। এরপর হাতে থাকা ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দেহ থেকে দাদির মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। তার চিৎকার শুনে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে দেখতে পান তার মায়ের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে বিছানায় পড়ে আছে। আর সজীব ট্যাপের নিচে মাথা দিয়ে নিজেই পানি ঢালছে।

আইয়ু আলী বলেন, ‘সজীব এইচএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ঢাকায় কোচিং করছিল। সম্প্রতি সে কিছুটা অপ্রকৃতস্থ হয়ে পড়ায় তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে অস্বাভাবিক আচরণ করছিল।’ তিনি আরও বলেন, “এ হত্যার আগে ও পরের ছবি তুলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া তার ছেলে মামুন আলীসহ একাধিক ব্যক্তির ফেসবুক মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে বলেছে ‘দেখ, আমি পারি কি না দেখিয়ে দিলাম’।”

এ বিষয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, সজীব তার ফেসবুক আইডিতে ‘আল্লাহু আকবার’ লিখে একটি স্ট্যাটাস দেয়। কিছুক্ষণ পর আবারও ‘ইনশাআল্লাহ একটাও ছাড় পাবে না’ লিখে আরেকটি স্ট্যাটাস দেয়। এর কিছুক্ষণ পর বিষয়টি সজীবের বাবা আহাম্মদ আলীর নজরে এলে তিনি চিৎকার করে বাড়ির সবাইকে ডাকাডাকি শুরু করেন। সবাই ছুটে এসে এই নৃশংস হত্যার ঘটনা দেখে সলঙ্গা থানায় পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার ও এ হত্যায় জড়িত নাতি সজীবকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম ও মাফিজুর রহমান বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জের শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া হত্যার সঙ্গে জড়িত নাতি সজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সলঙ্গা থানার ওসি একরামুল হক বলেন, এ ঘটনায় সজীবকে আসামি করে নিহতের ছোট ছেলে আইয়ুব আলী বাদী হয়ে সলঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত