ব্যাট হাতে প্রথম বলেই শূন্য রানে ফেরার হতাশা কাটিয়ে বল হাতে কাটিয়ে দিয়েছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। অফ স্পিনের জাদু দেখিয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগের ২৭তম আসরে প্রথম হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেট শিকার করেছেন এই অলরাউন্ডার।
রবিবার খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বরিশালের প্রথম ইনিংসে বোলিংয়ে আগুন ঝরান ২৬ বছর বয়সী আফিফ। ১০.৫ ওভারে মাত্র ২১ রান খরচে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে গুঁড়িয়ে দেন প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ। তার অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে বরিশাল ১২৬ রানে গুটিয়ে যায় এবং ফলো-অন বাধ্য হয়।
দিনের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে ইনিংসের ৪২তম ওভারে। আফিফের প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ হন শামসুল ইসলাম অনিক। পরের বলেও একই পরিণতি ইয়াসির আরাফাত মিশুর। হ্যাটট্রিক বল মোকাবিলা করতে আসেন শেষ ব্যাটার রুয়েল মিয়া। কিন্তু তিনিও রেহাই পাননি—আফিফের নিখুঁত ডেলিভারি ব্যাটে লাগাতে না পেরে আঘাত করেন প্যাডে, আর আম্পায়ারের আঙুল উঠতেই হ্যাটট্রিকের উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন আফিফ ও তার সতীর্থরা।
এই তিন উইকেটেই এলবিডব্লু—যা জাতীয় লিগে বিরল দৃশ্য। আফিফ এর আগে ফেরান সালমান হোসেন ইমন, শামসুর রহমান শুভ ও ফজলে মাহমুদ রাব্বিকে।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯তম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন আফিফ। এর আগে ইলিয়াস সানি, সোহাগ গাজী ও মোহাম্মদ আশরাফুল দুইটি করে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। আর আফিফের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্বিতীয় ৫ উইকেট শিকার। এর আগে ২০১৮ সালের জাতীয় লিগে রাজশাহীর বিপক্ষে ৬৬ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
প্রথম ইনিংসে খুলনার ৩১৩ রানের জবাবে বরিশাল থামে ১২৬ রানে। ফলোঅন করে দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নেমে ৪ উইকেট হারিয়ে ১১৯ রান তুলেছে তারা। আফিফ দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ ওভার বল করে ২৭ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি।
আফিফের মতো ৬ উইকেট পেয়েছেন আরেক স্পিনার হাসান মুরাদ। রাজশাহীতে স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস ১৯৬ রানেই গুটিয়ে দিয়েছেন তিনি ৩৯ রানে ৬ উইকেট নিয়ে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার ১৪তম ৫ উইকেট শিকার। প্রথম ইনিংসে ৪০১ রান করা চট্টগ্রাম ৪ উইকেটে ১৩৩ রান তুলে এগিয়ে আছে মোট ৩৩৮ রানে।
লিটন কেনো চান উইন্ডিজের বিপক্ষে খেলোয়াড়রা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ুক