চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাইবার হামলাসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিগগিরই দর্শনার্থীদের প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। এ ছাড়া, যাত্রীদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা টহলও জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক সমন্বয় সাধন করা হচ্ছে। সীমানা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিমানবাহিনীর নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্সও সক্রিয় রয়েছে।
গত ১৮ অক্টোবর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এই বাড়তি নিরাপত্তা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণে ঢাকার এয়ারফিল্ড প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকায় বেশ কয়েকটি দেশি-বিদেশি ফ্লাইট ঢাকা থেকে সিলেট ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করা হয়। সেদিন ছয় ঘণ্টার মধ্যে শাহ আমানত বিমানবন্দর কর্র্তৃপক্ষ ২২৬৫ জন যাত্রীর চাপ সফলভাবে সামাল দেয়।
বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, ১৮ অক্টোবর অতিরিক্ত যাত্রীদের চাপ সামলানোর সময় বিমানবন্দরের বাইরে দর্শনার্থীদের ভিড়ে নিরাপত্তার কিছু ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। একজন যাত্রীকে বিদায় জানাতে আসা একাধিক দর্শনার্থীর কারণে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিমানবন্দর এলাকায় একজন যাত্রীর সঙ্গে এক বা দুজনের বেশি দর্শনার্থীর প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগির এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. ইব্রাহিম খলিল।
এদিকে, সাইবার হামলা ঠেকাতে গত ১ অক্টোবর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষ (বেবিচক) শাহ আমানতসহ দেশের সব বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করে। বেবিচকের সদস্য (পরিচালন ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরে সাইবার হামলার ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিমান পরিবহন নিশ্চিত করতে সবাইকে সতর্ক থাকার এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এর আগে থেকেই শাহ আমানত বিমানবন্দর কর্র্তৃপক্ষ অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। সন্দেহজনক যাত্রীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বিমানবন্দর এলাকায় টহলের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিমানবাহিনীর নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্সও সক্রিয় রয়েছে বলে সূত্র জানায়।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের এখানে বিমানবাহিনীর টাস্কফোর্স এবং ফ্লাইট সেফটি ইমপ্লিমেন্টেশন সেন্টার রয়েছে। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। আমরা প্রতিটি নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক সমন্বয় বজায় রাখছি।’
বিমানবন্দর কর্র্তৃপক্ষ সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দশটি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে। এগুলো হলো: ১. শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পাসওয়ার্ড পুনঃব্যবহার এড়ানো এবং নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন। ২. অপরিচিত বা সন্দেহজনক ইমেইল ও লিংকে ক্লিক না করা। ৩. হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সন্দেহজনক লিংক বা অ্যাটাচমেন্টে ক্লিক থেকে বিরত থাকা। ৪. সফটওয়্যার ও অ্যান্টিভাইরাস নিয়মিত আপডেট রাখা। ৫. পাইরেটেড বা ক্র্যাকড সফটওয়্যার ব্যবহার না করা। ৬. অফিশিয়াল ডিভাইসে ব্যক্তিগত সফটওয়্যার বা অ্যাপ ইনস্টল না করা। ৭. মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবহার করা। ৮. দাপ্তরিক কাজে বেবিচকের ইমেইল অ্যাড্রেস ব্যবহার। ৯. গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্তের নিয়মিত ব্যাকআপ রাখা। ১০. পেনড্রাইভ স্ক্যান না করে ব্যবহার না করা।
বিমানবন্দরের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সীমানা প্রাচীরের সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং আনসার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘নিরাপত্তা টহলের পাশাপাশি টহলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সব নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া, একটি সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
