উইকিপিডিয়ার বিকল্প ইলন মাস্কের ‘গ্রোকিপিডিয়া’

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ০২:০৮ পিএম

অবশেষে চালু হয়েছে ইলন মাস্কের আলোচিত প্রকল্প ‘গ্রোকিপিডিয়া’। জনপ্রিয় অনলাইন জ্ঞানভাণ্ডার উইকিপিডিয়ার বিকল্প হিসেবে এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) মাস্কের প্রতিষ্ঠান এক্স-আই আনুষ্ঠানিকভাবে এটির যাত্রা শুরু করে।

গত সেপ্টেম্বরে ইলন মাস্ক ঘোষণা দিয়েছিলেন, তার টিম এমন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করছে, যা উইকিপিডিয়ার চেয়ে অনেক বেশি উন্নত হবে। তখন এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে তিনি লিখেন, মহাবিশ্বকে বোঝার পথে এটি এক্স-আই-এর একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ।

চালুর সময় গ্রোকিপিডিয়ায় মোট নিবন্ধ সংখ্যা ছিল ৮৮৫,২৭৯টি। তবে অনেক ব্যবহারকারী সাইটে প্রবেশ করতে গিয়ে বিভিন্ন ত্রুটির সম্মুখীন হচ্ছেন। ওয়েবসাইটটির ডিজাইন অনেকটা উইকিপিডিয়ার মতো হলেও এর পটভূমি কালো এবং ফন্টে আধুনিক চ্যাটজিপিটির প্রভাব রয়েছে।

সাইটে এখনও ‘ভার্সন ভি০.১’ লেখা দেখা যাচ্ছে। যা থেকে বোঝা যায়, এটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তুলনামূলকভাবে, উইকিপিডিয়ার ইংরেজি সংস্করণে বর্তমানে ৭০ লাখেরও বেশি নিবন্ধ রয়েছে।

ইলন মাস্কের এই নতুন উদ্যোগকে অনেকেই মূলধারার প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে তার আরেকটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। কয়েক বছর আগে মাস্ক উইকিপিডিয়ার প্রশংসা করলেও পরবর্তীতে তিনি এটিকে ‘রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে অভিযোগ করেন।

এমনকি একপর্যায়ে তিনি তার অনুসারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, উইকিপিডিয়াকে অর্থায়ন বন্ধ রাখুন, যতক্ষণ না সেখানে ভারসাম্য ফিরে আসে।

২০১৯ সালে মাস্ক তার উইকিপিডিয়া পাতার সমালোচনা করে টুইট করেন, এটি যেন একটি যুদ্ধক্ষেত্র! একের পর এক সম্পাদনা চলছে। ২০২২ সালে তিনি আরও সরাসরি হয়ে বলেন, উইকিপিডিয়ায় এখন স্পষ্টভাবে বামপন্থী পক্ষপাত কাজ করছে।

এদিকে, উইকিপিডিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা জিমি ওয়েলস এবং ইলন মাস্কের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন বাকবিতণ্ডা চলছে। ২০২৩ সালের মে মাসে তুরস্কের নির্বাচনের প্রাক্কালে এক্স প্ল্যাটফর্মে কিছু কনটেন্ট সীমাবদ্ধ করায় ওয়েলস মাস্কের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। একই বছরের নভেম্বরে টুইটার যখন এক্স-এ রূপান্তরিত হয়, তখন ওয়েলস মন্তব্য করেন, এক্স এখন ট্রল ও উন্মাদে ভরা।

এর জবাবে মাস্ক রসিকতা করে টুইট করেন, উইকিপিডিয়া যদি তাদের নাম বদলে ‘ডিকিপিডিয়া’ রাখে, তাহলে আমি এক বিলিয়ন ডলার দান করব!

ওয়েলস সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রোকিপিডিয়া সম্পর্কে তার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি এখনও নির্ভুল তথ্য উপস্থাপনের জন্য যথেষ্ট উন্নত নয়।

চালু হওয়ার পর থেকেই গ্রোকিপিডিয়ার তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইটে মাস্ক সম্পর্কিত একটি নিবন্ধে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে যে বিবেক রামস্বামী একটি ডিজিটাল মুদ্রা প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ সত্য নয়।

তবে মাস্ক দাবি করেছেন, এই ভুলগুলো দ্রুত সংশোধন করা হচ্ছে এবং শীঘ্রই গ্রোকিপিডিয়া ‘মানব জ্ঞানের সমগ্র ভাণ্ডারকে পুনরায় লিখবে- ভুল শুধরে এবং অনুপস্থিত তথ্য যোগ করে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, গ্রোকিপিডিয়া তথ্যের বিকেন্দ্রীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে তথ্যের নির্ভুলতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। উইকিপিডিয়ার মতো ব্যবহারকারী-নির্ভর মডেলের বদলে যদি এআই-নির্ভর গ্রোকিপিডিয়া সঠিকতা হারায়, তবে তা ভুল তথ্য ছড়ানোয়ার আরেকটি কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত