কুমিল্লায় গ্রাহকের ৪ কোটি টাকার স্বর্ণ নিয়ে ব্যবসায়ী উধাও

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:১৩ পিএম

কুমিল্লার চান্দিনায় ব্যবসায়ী ও বন্ধকদাতাদের স্বর্ণ ও নগদ অর্থ নিয়ে উধাও হয়েছেন নারায়ণ কর্মকার (প্রদীপ) নামে এক জুয়েলার্স ব্যবসায়ী। অভিযুক্ত ব্যবসায়ী উপজেলার জোয়াগ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর নতুন বাজারের পর্শীয়া জুয়েলার্সের মালিক।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ১০ দিন ধরে তার দোকান বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি দুই লাখ টাকার ওপরে উঠলে লোভ সামলাতে না পেরে নারায়ণ কর্মকার প্রায় চার কোটি টাকার বেশি স্বর্ণ ও নগদ অর্থ নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বর্তমানে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছেন।

স্থানীয়রা জানান, পর্শীয়া জুয়েলার্সের শাটার ও কলাপসিবল গেটে তালা ঝুলছে। গত ১০ দিন ধরে দোকান বন্ধ। ব্যবসায়ী নারায়ণ কর্মকারের লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাড়িতেও কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণঘাট এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীরা বলেন, পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে ওই ব্যবসায়ীকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হোক—এটাই তাদের একমাত্র দাবি।

শরীফ নামে এক ভুক্তভোগী জানান, “নারায়ণ কর্মকার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মনোরঞ্জন কর্মকারের ছেলে। প্রায় ২০ বছর ধরে বাজারে জুয়েলার্স ব্যবসা করছিলেন। আমি জিম্মাদার হয়ে তাকে চার লাখ টাকা ঋণ তুলতে সাহায্য করেছিলাম। 

এছাড়া তার দৈনিক সমিতিতে প্রতিদিন ৬০০ টাকা করে দুই বছর ধরে জমা রেখেছি, আর আমার স্ত্রীর দুই ভরি স্বর্ণও তার কাছে গচ্ছিত ছিল। সব মিলিয়ে ১২ লাখ টাকারও বেশি নিয়ে সে উধাও হয়েছে।”

বাজারের আরেক ব্যবসায়ী বরুণ সাহা জানান, “আমরা ৫১ জন সদস্য নিয়ে দৈনিক সমিতি চালাতাম। প্রতিদিন ৭৫০ টাকা করে আমি জমা দিতাম। আমার এক লাখ ৪০ হাজার টাকার সমিতির টাকা সে আত্মসাৎ করেছে। প্রতি বছর বৈশাখ থেকে চৈত্র পর্যন্ত টাকা জমা রেখে শেষে সমিতির টাকা ফেরত দিত। এবার সবাইকে ফাঁকি দিয়ে দোকান বন্ধ করে পালিয়েছে।”

অন্য ভুক্তভোগীদের মধ্যে ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেনের ৩ লাখ ৩০ হাজার, আবুল হোসেনের ৩ লাখ ৫০ হাজার, এরশাদ আলীর ৫ লাখ এবং বেলাল গাজীর ১ লাখ ৪২ হাজার টাকারও বেশি আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত নারায়ণ কর্মকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি; ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত