কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান শান্তি আলোচনা। গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য দিয়েছে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং পাকিস্তানের একটি নিরাপত্তা সূত্র। তবে এ নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি দুদেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মুখপাত্ররা বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গত সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মধ্যে শান্তি আলোচনা গড়ায় তৃতীয় দিনে। এতে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা হয়। এরমধ্যেই রবিবার আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকায় সংঘাত হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আলোচনার মধ্যেও সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। রবিবার দুই দফা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে গিয়ে তারা ২৫ জঙ্গিকে হত্যা করেছে। এ সময় পাকিস্তানের পাঁচ সেনা নিহত হয়েছেন।
গত ১৯ অক্টোবর দোহায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ও আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এর পর থেকেই ইস্তাম্বুলে চলছে বিস্তারিত আলোচনার পরবর্তী ধাপ। বৈঠকের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, অধিকাংশ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও আফগান ভূখণ্ড থেকে সক্রিয় সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ‘যথাযথ ব্যবস্থা’ গ্রহণের প্রক্রিয়াই প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের এক কূটনৈতিক বলেন, আমরা আশা করেছিলাম শিগগির আফগানিস্তানের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারব। এরপর যৌথ বিবৃতি দেওয়া হবে। কিন্তু সেটি এখনো আমাদের নাগালের বাইরে।
বৈঠকের প্রথম ভাগে পরিবেশ ছিল বেশ ইতিবাচক। অংশগ্রহণকারীরা তখন আলোচনা সম্পর্কে বেশ অগ্রগতির কথা বলেছিলেন। তবে দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশা কমতে থাকে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী এক কূটনীতিক স্বীকার করেন, এখন পরিস্থিতি কঠিন হচ্ছে। সন্ধ্যার দিকে বৈঠক স্থবির হয়ে পড়ে এবং রাতেও আলোচনায় নতুন কোনো গতি দেখা যায়নি। কূটনৈতিক সূত্রটি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, আফগান তালেবান প্রতিনিধিদল এখনো কোনো লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে অনিচ্ছুক। বিশেষত পাকিস্তানবিরোধী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) সমর্থন বন্ধের বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রশ্নে তালেবান প্রতিনিধিদল কোনো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না।
