ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’র প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়–বৃষ্টি ও বিরামহীন পানিপাতের কারণে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় রোপা–আমন ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। বুধবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার প্রভাবে উপজেলার আট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ধানক্ষেতে পানি জমেছে। ফলে ধানের গাছ শুয়ে পড়ায় ফলন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে কৃষকদের মধ্যে।
বৃহস্পতিবার সকালেও কিছুটা রোদ দেখা গেলেও বেলা ১০টার পর আবার গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। রাতভর বৃষ্টিতে মাঠজুড়ে পানির স্তর বাড়তে থাকে। বিশেষ করে নিচু জমিগুলোতে পানি জমে ধানগাছ নুয়ে পড়ায় কৃষকের স্বপ্নে পানি ঢেলে দিয়েছে বৈরী আবহাওয়া।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, খরার কারণে সেচ দিয়ে যেভাবে ধান পরিচর্যা করতে হয়েছিল, এখন তার বিপরীতে বৃষ্টিতে জমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে ধান পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি রবি মৌসুমের আগাম বীজতলা তৈরিতেও প্রভাব পড়তে পারে।
রাণীনগরে চলতি মৌসুমে রোপা–আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার ৬০০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে চাষ হয়েছে ১৮ হাজার ৭১০ হেক্টরে। কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে সার–বীজসহ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল ১ হাজার ৭০০ জনকে। তবে বুধবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত বৃষ্টিতে অধিকাংশ ক্ষেতেই ধান নুয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’র প্রভাবে ঝড়–বৃষ্টিতে প্রায় সব ইউনিয়নের কিছু অংশে ধান শুয়ে পড়েছে। তবে জমির পানি দ্রুত সরে গেলে বড় ক্ষতি হবে না। কৃষকদের ধানের গাছ খাড়া করে বেঁধে দিতে বলা হয়েছে। অনেকেই কাজ শুরু করেছেন। ধারাবাহিকভাবে কাজ চললে ফলনে বড় ধরনের বিপর্যয় হবে না বলে আশা করছি।
কৃষি বিভাগ বলছে, আগামী দুই–এক দিনের মধ্যে রোদ উঠলে পানি নেমে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। তবে বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হলে পচন ঝুঁকি বাড়বে।
আমাদের জুলাই সনদের প্রয়োজন নেই: মেজর হাফিজ
ফরিদপুরে পিস্তল ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ২ আসামি গ্রেপ্তার