ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ডাকাতির আধিপত্য বিস্তারে পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ১

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৪৫ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কুখ্যাত ডাকাত সরদার মোন্নাফ মিয়া ওরফে মনেক মিয়ার ছেলে শিপন ডাকাত (৩০) নিহত হওয়াসহ তিনজন গুরুতর গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

শনিবার (১ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে জেলার নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের গণি শাহ মাজার বাজারে স্থানীয় একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটে।

হামলার খবর পেয়ে রাতেই জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক ও নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। 

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের গণি শাহ মাজার বাজারে স্থানীয় একটি হোটেলে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে এলাকার কুখ্যাত ডাকাত সরদার মোন্নাফ মিয়া ওরফে মনেক ডাকাতের ছেলে শিপন মিয়া আড্ডা দিচ্ছিল। ওই সময় আচমকা একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হোটেলটিতে গুলি করতে করতে ঢুকে। সে সময় শিপন মিয়া এবং হোটেলের দুই কর্মচারী ইয়াছিন (২০) ও নূর আলম (১৮) গুরুতর গুলিবিদ্ধ হয়। গুলির আওয়াজে পুরো বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলি করার পর সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে বীরদর্পে চলে যায়। 

এ সময় একজন চিৎকার করে বলে মনেক ডাকাতের ছেলে শিপন গুলি খাইছে রে,,,, একথা তার বাড়ি পার্শ্ববর্তী গ্রাম নূরজাহানপুরে ছড়িয়ে পড়লে, মনেকের নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ লোকজন সশস্ত্র অবস্থায় গণি শাহ মাজারের অদূরে তালতলায় গিয়ে স্থানীয় এমরান হোসেন মাস্টারের অফিসে তখন হামলা চালায়।

পরে কুখ্যাত মনেক ডাকাতের লোকজনের মহড়ায় ও সশস্ত্র ছোঁড়া গুলিতে এমরান মাস্টার (৩৮) গুলিবিদ্ধ হন। এমরান মাস্টার ঢাকায় কর্মরত পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) বিল্লাল হোসেনের ছোট ভাই। তিনি (এমরান) পার্শ্ববর্তী শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। এমরান মাস্টারের বাড়ি বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামে।

বিক্ষুব্ধ সশস্ত্র লোকজন এরপর থোল্লাকান্দি গ্রামে হামলা চালিয়ে একাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর করে। 

এদিকে গুলিবিদ্ধ চারজনকে রাতেই ঢাকায় পাঠানোর পথি মধ্যে শিপন মারা যায়। এরমধ্যে ও হোটেল কর্মচারী ইয়াছিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

এলাকার একাধিক সূত্র জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মনেক ডাকাত ও তার ছেলে শিপনের পুরো এলাকায় একক আধিপত্য ছিল। সেই আধিপত্য নিয়েই থোল্লাকান্দি গ্রামের মাষ্টারের ছেলে আরাফাতের নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা মনেক ডাকাতের ছেলে শিপনকে শনিবার রাতে গুলি করে।

আর এই আরাফাত থোল্লাকান্দি গ্রামের এমরান হোসেন মাস্টারের জ্ঞাতিগোষ্ঠী। এ কারণেই মনেক ডাকাতের ছেলে শিপন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ মনেক ডাকাত এমরান মাস্টারের অফিসে গিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে গুলি করে। 

পাল্টাপাল্টি এ গুলাগুলি ঘটনার পর পুনরায় সংঘর্ষ ও হামলার ভয়ে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পরে রাত সাড়ে ১১টায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াস বসাক দেশ রূপান্তর কে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাত থেকে অভিযান অভ্যহত রয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত