ভাঙ্গায় বৈঠককে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৩৫

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৫, ১০:০৮ এএম

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার ও সালিশ-বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩৫ জন আহত হয়েছেন। রবিবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গুপিনাথপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।  

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গুপিনাথপুর এলাকার বাসিন্দা সায়মন শেখ ও কুদ্দুস মুন্সি গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছোট হামিরদির মোতালেব মাতুব্বরের দোকানে এসে লোকজনের সামনে কুদ্দুস মুন্সিকে নিয়ে গালিগালাজ করেন সায়মন শেখ। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এ ঘটনায় রবিবার বিকেলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে গুপিনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সালিশি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সালিশ প্রত্যাখ্যান করে সায়মন শেখ গ্রুপ। পরে এসব নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন।

স্থানীয় ছোট হামিরদী গ্রামের বাসিন্দা সাহাদাৎ ফকির বলেন, ‌দুই পক্ষের সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একপক্ষ সালিশ বৈঠকে উপস্থিত না হলে পরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুই পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। 

এ বিষয়ে কুদ্দুস মুন্সি বলেন, সায়মন শেখের লোকজন সালিশ বৈঠকে উপস্থিত না হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। তারা অন্তত ২০টি বাড়ি, ৩টি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে আমার পক্ষের কমপক্ষে ১৫/২০ জন আহত হয়েছে।

এদিকে একই বিষয়ে সায়মন শেখের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের নাদিম বলেন, সংঘর্ষে গুরুতর আহত ৪ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমপক্ষে ২০/২৫ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। 

ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বর্তমানে এখনো এলাকায় থমথমে ব্যবস্থা বিরাজ করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত