মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকীর সমর্থকরা।
এ সময় গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিবচর উপজেলার ওই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার দুপুরে বিএনপি মাদারীপুর-১ আসনে জামান কামাল নুরুদ্দিন মোল্লাকে মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।
ঘোষণার পরপরই মনোনয়ন না পাওয়া সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকীর সমর্থকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় এবং সন্ধ্যায় এক্সপ্রেসওয়েতে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভে নামে।
এ সময় তারা কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুর চালায় এবং ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে যান চলাচলে ব্যপক বিঘ্ন ঘটে এবং যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, মনোনীত প্রার্থী জামান কামাল নুরুদ্দিন মোল্লার ভাই শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন, যা বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অসন্তুষ্ট কিছু নেতাকর্মী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিক্ষোভে অংশ নিলেও, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
জানা যায়, জামান কামাল নুরুদ্দিন মোল্লা শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ছিলেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনায় মাদারীপুর বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
শিবচর থানার ওসি রাকিবুল ইসলাম বলেন, “বিক্ষুব্ধরা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে, তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”
উল্লেখ্য, মাদারীপুরের দুটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি।
মাদারীপুর-১ আসনে জামান কামাল নুরুদ্দিন মোল্লা এবং মাদারীপুর-৩ আসনে আনিসুর রহমান খোকন তালুকদারকে প্রার্থী করা হয়েছে।
২০০১ সালে জামান কামাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন এবং বর্তমানে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
অন্যদিকে, আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার ২০১৮ সালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
মিত্রদের জন্য ৬৩ আসন ফাঁকা রাখল বিএনপি?