সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বাঘাবাড়ি মিল্ক ভিটার আওতাধীন উল্লাপাড়ার লাহেড়ী মোহনপুরে স্থাপিত প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয় করে স্থাপিত পশু খাদ্য কারখানাটি বন্ধ হয়ে পরে থাকায় হতাশায় ভুগছেন বৃহত্তর পাবনা জেলার শত শত সমবায়ী খামারিরা। পড়েছেন গো-খাদ্য সংকটে, বাধ্য হয়ে সমবায়ী খামারিরা ভেজাল খাবার কিনছেন বাহির থেকে তাদের গাভীর জন্য এতে ঘটছে গর্ভপাত হিটে আসছে না গাভী। উল্লাপাড়ার লাহিড়ী মোহনপুর রেল লাইনের পাশে বিশাল এলাকা জুড়ে ২০১২ সালে কারখানাটি স্থাপনের কাজ শুরু হয়। কারখানাটির উৎপাদন শুরু হয় ২০১৪ সালে।
ভুক্তভোগী খামারিরা জানান, চার বছর ধরে ওই কারখানায় উৎপাদিত দানাদার গো-খাদ্য তারা পাচ্ছেন না। তবে মহিষের খামারে খাদ্য সরবরাহ করা হত। গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে কারখানাটি বন্ধ হলে সেটিও বন্ধ রয়েছে। ফলে কারখানাটি এখন পুরাপুরি বন্ধ থাকায় কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে।
এই কারখানার বর্তমান ব্যবস্থাপক ডা. বাবুল আক্তার জানান, কারখানাটি ২০১৪ সালে চালুর পর কারখানার উৎপাদিত দানাদার পশুখাদ্য সুলভ মূল্যে সারা দেশের বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন এর (মিল্ক ভিটা) আওতাধীন খামারিদের মাঝে ‘নো লস নো প্রোফিটে’ বিক্রি হত। এতে খামারিদের গাভীর দুধ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গরুর রোগ ব্যাধি কমে গিয়েছিল। এদিকে বাঘাবাড়ি মিল্ক ভিটার আওতাধীন বৃহত্তর পাবনা জেলার দুগ্ধ খামারিদের অভিযোগ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচা মিল্ক ভিটার সাবেক চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু সুকৌশলে এই গো-খাদ্য কারখানাটির উৎপাদন কমিয়ে দেন।
খামারিরা আরও জানান, মিল্ক ভিটার সাবেক এই চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু নিজেই গোপালগঞ্জে একই ধরনের একটি গো-খাদ্য কারখানা স্থাপন করেন। ওই কারখানার উৎপাদিত গো-খাদ্য মিল্কভিটা সমিতি ভুক্ত খামারিদের মাঝে বিক্রির জন্য মিল্কভিটার ডাক্তার ও অফিসারদের ব্যবহার করেন। অতি উৎসাহী মিল্ক ভিটার কতিপয় ডাক্তার ও কর্মকর্তারা মিল্ক ভিটার নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত উৎকৃষ্ট মানের দানাদার গো-খাদ্য খামারিদের কিনতে নিরুৎসাহিত করে। মিল্ক ভিটার সাবেক চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপুর কারখানায় উৎপাদিত গো-খাদ্য কিনতে খামারিদের বাধ্য করতেন।
এদিকে উল্লাপাড়া উপজেলার কয়রা ইউনিয়নের খামার পাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী জানান, তিনি নিজেই কয়ড়া খামারপাড়া প্রাথমিক দুগ্ধ সমিতির ম্যানেজার। তার নিজস্ব গো-খামার রয়েছে। নিয়মিত তিনি বাঘাবাড়ি মিল্ক ভিটা দুগ্ধ কারখানায় দুধ সরবরাহ করে থাকেন। তিনি জানান, কারখানাটি চালুর পর থেকেই এ কারখানার উৎপাদিত দানাদার গো-খাদ্য মিল্ক ভিটার দুগ্ধ খামারিদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। পুষ্টির দিক থেকে মোহনপুর গো-খাদ্য কারখানার উৎপাদিত এই দানাদার খাবার খুবই উন্নত ও পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ ছিল। ফলে গাভীর দুধ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গাভীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। যে সকল গাভী এতদিন বার বার হিটে এসেও গর্ভধারণ করতে পারে নাই মিল্ক ভিটার নিজস্ব কারখানার খাবার খেয়ে সেই সমস্যাও কেটে যায়।
অপরদিকে শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া প্রাথমিক দুগ্ধ সমিতির পরিচালক লিটন প্রামাণিক জানান, তারও একটি গো-খামার রয়েছে। ওই কারখানার দানাদার খাবার (ফিড) তাদের প্রাথমিক দুগ্ধ সমিতির সদস্যদের মাঝে (খামারি) বিক্রি করা হতো। তাদের ক্রয়কৃত খাবারের মূল্য বাঘাবাড়ি মিল্ক ভিটা দুগ্ধ কারখানায় সরবারাহ দুধের মূল্য থেকে সমন্বয় করা হতো। এতে করে খামারিরা খাবারের মূল্য পরিশোধের বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকতেন। তিনি আরও জানান, তার সমিতিসহ বাঘাবাড়ি মিল্কভিটা আওতাধীন বৃহত্তর পাবনা জেলার দুগ্ধ খামারিরা মোহনপুরের বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়নের সমবায়ীদের নিজস্ব কারখানার দানাদার খাবার (ফিড) ৪২ টাকা কেজি দরে কিনে গাভীকে খাইয়ে লাভবান হয়েছেন।
এদিকে বাঘাবাড়ি মিল্ক ভিটা দুগ্ধ কারাখানার অভ্যন্তরে স্থাপিত বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন এর সমিতি বিভাগের ডিজিএম অমিয় কুমার মণ্ডল জানান, মোহনপুরের গো-খাদ্য কারখানাটি খামারিদের আর্শিবাদ হয়ে এসেছিল। বর্তমানে কারখানাটি বন্ধ থাকায় ভেজাল মিশ্রিত দানাদার খাবার বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে খামারিদের। তিনি আরো জানান, মিল্কভিাটার এই নিজস্ব গো-খাদ্য তারা তাদের খামারিদের মাঝে বাকীতে বিক্রি করতেন। দুধের বিল পরিশোধের সময় ওই খাবারের মূল্য সমন্বয় করে নেওয়া হতো। ফলে খামারিদের গো-খাদ্যের জন্য দুঃশ্চিন্তায় থাকতে হতো না।
এদিকে লাহিড়ী মোহনপুর গো-খাদ্য কারখানাটি দায়িত্বরত বর্তমান ম্যানেজার মো. বাবুল আক্তার জানান, মিল্কভিটার এ কারখানাটি কাচামালের অভাবে উৎপাদন কমিয়ে দিলে মিল্কভিটার সমিতি ভুক্ত খামারিদের দীর্ঘ চার বছর এ মিলের উৎপাদিত গো-খাদ্য পায়নি। তবে কারখানাটি বন্ধ হওয়ার আগে মাদারিপুরের টেকের হাট ও নোয়াখালীর রায়পুরে মিল্ক ভিটার মহিষের খামারে সামান্য পরিমাণ দানাদার গো-খাদ্য সরবরাহ করা হতো। তিনি জানান, এ কারখানা থেকে উৎকৃষ্ট মানের উপকরণ যেমন ভুট্টা, গমের ভূষি, ডি অয়েল রাইচ ব্রান্ড, রাইচ পলিশ, তিলের খৈল, চিটা গুড় সহ নানা উপকরণ দিয়ে এই ফিড তৈরি করার পর তা কঠোরভাবে মান নিয়ন্ত্রণ করে খামারিদের মাঝে বিক্রি করা হত। এছাড়াও মিল্ক ভিটার আওতাধীনের বাইরে যে সকল খামার রয়েছে ওই সব খামারিদের মাঝেও তাদের উৎপাদিত দানাদার খাবার ৪৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হতো।
মিল্ক ভিটার সাবেক চেয়ারম্যান বিশিষ্ট খামারি মো. হাসিব খান তরুণের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার মুঠো ফোনে লাহেড়ী মোহনপুরে অবস্থিত গো-খাদ্য কারখানা নিয়ে কথা হয়। তিনি জানান, ২০১২ সালে তিনি যখন মিল্কভিটার চেয়ারম্যান ছিলেন তখন অনুদানের টাকা দিয়ে কারখানাটি স্থাপনের কাজ শুরু হয়। মিল্কভিটার সমবায় খামারিরা যাতে উন্নতমানের দানাদার খাবার গাভীকে খাওয়াতে পারেন সেটির ব্যবস্থা কর হয়। ব্যবস্থাপনার ত্রুটি আর নানা জটিলতায় কারখানাটি বন্ধ হলে খামারি এখন গরু বাছুর নিয়ে বিপাকে পড়ছেন। তিনি বলেন দুগ্ধ খামার টিকিয়ে রাখতে হলে বন্ধ কারখানাটি ফের চালু করা দরকার।
নকলায় পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা
খালেদা জিয়ার আসনে প্রার্থী না দেওয়ার ঘোষণা এনসিপির
রাজধানীতে ট্রেনের ধাক্কায় ব্যক্তি নিহত
নিবন্ধন পায়নি আমজনতা দল, অনশনে বসলেন তারেক