খোসা ছাড়ানো বাদাম যাচ্ছে দেশে বিদেশে

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:০৬ পিএম

‘আগত হামরা ঘরত থাকি ভাত তরকারি আন্ধাবারা আর ছুয়াপুতা মানসি করার কাম কইছিনো এলা হামরা বাদামের মিলত কাম করি আয় ওজগার কচ্ছি। সংসারত টাকা দিবা পাচ্ছি, হামার স্বামীলার চাপ কমেছে।’ এভাবেই পরিবর্তনের গল্প শোনাচ্ছিলেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজলোর লক্ষ্মীরহাট এলাকায় বাদাম প্রক্রিয়াজাত কারখানায় কাজ করা প্রমিলা রানী। তার মতো সহস্রাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে জেলার বাদাম শিল্পে। যাদের বেশিরভাগই নারী। 
 
স্থানীয়রা জানান, গত এক দশকে পঞ্চগড়ের বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার মাড়েয়া, লক্ষ্মীরহাট, শান্তিরহাট, খোঁচাবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে অর্ধশত বাদাম প্রক্রিয়াজাত কারখানা। বাজার থেকে কৃষকের কাছে বাদাম কিনে তা এসব কারখানায় খোসা ছাড়িয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভালো মানের দানা সরবরাহ করা হয় দেশে বিদেশে। বাদাম চাষ ও বিপণন ঘিরে গড়ে উঠা এসব কারখানাকে ঘিরে চাঙ্গা হয়েছে  স্থানীয় অর্থনীতি। 

ব্যবসায়ীরা জানান, পঞ্চগড়ে উৎপাদিত বাদাম মানে আকারে ভালো হওয়ায় দেশ ব্যাপী চাহিদা রয়েছে। বাজারে বর্তমান বাদাম বিক্রি হচ্ছে ৩৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে। খোসা ছাড়িয়ে প্রতি মণ থেকে বাদামের দানা পাওয়া যায় ২৫ থেকে ২৮ কেজি। এই দানা আকার অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বাছাই করে দেশের বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ ও মালয়েশিয়াতেও রপ্তানি করা হয়। বাদামের খোসাও জ্বালানি হিসেবে বিক্রি করা হয়। তবে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই শিল্প জেলার অর্থনীতিতে গরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

দেবীগঞ্জে পামুলী এলাকার বাদাম চাষি উমেদ আলী বলেন, বাদাম অনেক লাভজনক একটা ফসল। ডাঙ্গাজমিগুলোতে আমরা বেশিরভাগই বাদাম চাষ করি। অনেক কারখানা গড়ে উঠার ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।

বাদাম কারখানার শ্রমিক মমতা বেগম বলেন, বাদাম কারখানা হওয়াতে আমরা অনেক মানুষ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছি। আমরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বাদামের দানা বাছাই করারসহ বিভিন্ন কাজ করি। 

মনিরা অটো বাদাম প্রসেসিং মিলের স্বত্ত্বাধিকারী আবুল বাশার বলেন, বাদামের বহু কারখানা গড়ে উঠায় আমাদের এলাকার অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে। এখানকার আমরা দেশে বিদেশে পাঠাচ্ছি। অনেক মানুষের কাজের সুযোগ হয়েছে। সহজ শর্তে আমরা ঋণ সুবিধা পেলে বাদাম শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈম মোর্শেদ বলেন,  গেলো মৌসুমে পঞ্চগড়ে বাদাম আবাদ হয়েছে ৯৯৯০ হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে সিংভাগ আবাদ হয়েছে বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলায়। বাদাম শিল্পে বছরে অন্তত ৫০০ কোটি টাকার বাজার তৈরি হয়েছে। আমরা আশা করছি সামনে এই শিল্প আরও প্রসার লাভ করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত