ছয়টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত খুলনা জেলা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব আসনের মধ্যে ৫টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে খুলনা-২ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনা-৬ আসনে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পিকে প্রার্থী করে চমক দেখিয়েছে দলটি।
এ ছাড়া খুলনা-৩ আসনে রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আসনে আজিজুল বারী হেলাল ও খুলনা-৫ আসনে আলী আসগর লবিকে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তবে খুলনা-১ আসনের প্রার্থীর নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মনোনয়ন ঘোষণার পরদিন থেকেই বিএনপির প্রার্থীরা জোরেশোরে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। বিশেষ করে সভা-সমাবেশ, মতবিনিময়, শোডাউন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ভোট চাইছেন তারা। এছাড়া শহরের সড়ক ও ডিভাইডারে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে ভরে গেছে এলাকা।
সূত্র জানায়, খুলনা-২ আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। কিন্তু এই আসনে সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে মনোনয়ন দিয়ে দলটি সবাইকে চমকে দিয়েছে। যদিও মঞ্জু ২০২৩ সালের পর থেকে দলীয় কোনো পদে ছিলেন না এবং নিজস্ব অনুসারীদের নিয়ে আলাদা কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।
খুলনা-২ আসনের মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “দলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। সঠিক মানুষকে সঠিক জায়গায় রেখেছেন নেতারা। এজন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”
জানা গেছে, অসুস্থতার কারণে তিনি বর্তমানে বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার পক্ষে অনুসারীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে জানান সাবেক ছাত্র নেতা আসাদুজ্জামান মুরাদ।
খুলনা-৩ আসনে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল। তার পক্ষেও দিনভর প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে।
খুলনা-৪ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পারভেজ মল্লিক। শেষ পর্যন্ত আজিজুল বারী হেলালের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেওয়া হয়েছে।
রূপসা ঘাটের ব্যাংক চত্বরে দোয়া অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনি নির্বাচনী কার্যক্রমের সূচনা করেন। এ সময় হেলাল বলেন, “আমার জন্মভূমিতে আবারও ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
খুলনা-৫ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে বিসিবির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আলী আসগর লবিকে।
অন্যদিকে খুলনা-৬ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করে দলটি আরও একটি চমক দিয়েছে। এই আসনে একাধিক নেতাকর্মী মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন—তাদের মধ্যে ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম, সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম কাগজী, বাসস চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীন, পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. আব্দুল মজিদ এবং সদস্য রফিকুল ইসলাম।
কিন্তু মনিরুল হাসান বাপ্পি প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে ছিলেন না। গত ২৭ অক্টোবর খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময়ে তাকে ডাকা হয় এবং হঠাৎ গত রবিবার জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর সোমবার তাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
মনিরুল হাসান বাপ্পি বলেন, “দীর্ঘদিন রাজপথে ছিলাম, ৩৫ বছর ধরে দলের কর্মী হিসেবে কাজ করছি। ছাত্রদল থেকে শুরু করে যুবদল পর্যন্ত সক্রিয় ছিলাম। গেল ১৭ বছর ধরে হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে থেকেছি। দল আমার পরিশ্রমের মূল্যায়ন করেছে।”
তিনি আরও জানান, পিতার কবর জিয়ারত করে তিনি প্রচারণা শুরু করেছেন এবং অসুস্থ জেলা নেতাদের দেখতে হাসপাতালে গেছেন। কয়রা ও পাইকগাছার স্থানীয় নেতাদের সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগ করেছেন। বুধবার জেলা বিএনপির বর্ধিত সভার মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করবেন।
এদিকে খুলনা-১ আসনের প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমির এজাজ খানের অনুসারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
