স্কোয়াড নিয়ে কেন এত লুকোচুরি?

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৫, ০১:২৮ এএম

১৩ নভেম্বর নেপালের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ ও ১৮ নভেম্বর ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। নিজ আঙিনায় এই দুটি ম্যাচকে সামনে রেখে আগাম ক্যাম্প শুরু হয়েছিল ৩০ অক্টোবর। প্রধান কোচ হাভিয়ের কাবরেরার অনুপস্থিতিতে ১৪ ফুটবলার নিয়ে এতদিন ক্যাম্প পরিচালনা করেছেন সহকারী কোচ হাসান আল মামুন। মঙ্গলবার অবশ্য দায়িত্বে ফিরেছেন কাবরেরা। বিকেলে প্র্যাকটিস সেশন শুরুর আগে তার কাছে প্রশ্ন ছিল, যেখানে চমকের সম্ভাবনাই নেই, সেখানে তালিকা নিয়ে কেন এত লুকোচুরি? এ প্রশ্নে ক্যাম্প শুরুর আগেই তালিকা বাফুফের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে পিঠ বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন কোচ। তবে ভেতরের খবর, তালিকা বাফুফেকে দিলেও নিজেই বলেছেন তার অনুমতি ছাড়া যাতে প্রকাশ করা না হয়।

জানা গেছে, এই দুই ম্যাচের জন্য ২৬ জনের একটা প্রাথমিক তালিকা করেছেন কোচ। এর মধ্যে ১৪ ফুটবলার ৩০ অক্টোবর ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। আবাহনী, মোহামেডান, ফর্টিস, ব্রাদার্সে খেলা ফুটবলারদের সঙ্গে শুরু থেকে আছেন বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা ডিফেন্ডার তারিক কাজী ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জায়ান আহমেদ। এএফসির ক্লাব টুর্নামেন্টের কারণে বসুন্ধরা কিংসের ১০ ফুটবলার এখনো যোগ দেননি। কুয়েতে ব্যর্থ মিশন শেষে কিংস দেশে ফিরেছে দুদিন আগে। মঙ্গলবার তাদের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে বসুন্ধরা এত আগে জাতীয় দলে খেলোয়াড় ছাড়তে রাজি হয়নি। তারা তাদের খেলোয়াড়দের বিশ্রামে রেখেছে। ছুটি কাটিয়ে খেলোয়াড়রা সরাসরি ৭ নভেম্বর যোগ দেবেন ক্যাম্পে।

তালিকা না দেওয়ার ব্যাখ্যায় কাবরেরা নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন, ‘আমি সবসময় ক্যাম্পের আগে তালিকা দিই। (কেন প্রকাশ করা হয়নি) জানি না। এ ব্যাপারে আপনাকে মিস্টার সাদমানের (মিডিয়া ম্যানেজার) সঙ্গে কথা বলতে হবে। এটা কোচিং স্টাফের নির্দেশনা নয়। আমি সবসময় ক্যাম্পের আগে তালিকা দিয়ে থাকি।’ বাফুফের মিডিয়া ম্যানেজার সাদমান সাকিব জানিয়েছেন তার অপারগতার কথা, ‘কোনো তালিকাই এখন পর্যন্ত বাফুফের মিডিয়া বিভাগের হাতে আসেনি। তাই দেওয়া হয়নি।’

একটি ক্যাম্পে কারা ডাক পাবে সেটা কোচ চূড়ান্ত করেন। সেটা প্রকাশের আগে নিতে হয় জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন। বাফুফের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দুই প্রস্থে কোচ তালিকা বাফুফের কাছে দিলেও বলে দিয়েছেন যাতে সেটা তার অনুমতি ছাড়া প্রকাশ না করা হয়। অথচ কাবরেরা মঙ্গলবার সংবাদ মাধ্যমকে দিয়েছেন অন্যরকম ব্যাখ্যা।

নেপালের বিপক্ষে ম্যাচটা মূলত ভারতের ম্যাচের প্রস্তুতির অংশ। ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হওয়ার কথা ছিল নেপালের চেয়েও ঢের শক্তিশালী আফগানিস্তানের। শেষ পর্যন্ত আফগানদের আসতে অপারগতা জানানোয় তড়িঘড়ি নেপালকে রাজি করায় বাফুফে। প্রীতি ম্যাচের প্রতিপক্ষ বদল নিয়ে খুব বেশি মাথাব্যথা নেই কাবরেরার, ‘অবশ্যই আমাদের লক্ষ্য দুটি ম্যাচ জেতা এবং এমনকি শেষ ম্যাচটিও (সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মার্চে)। তাই নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আমরা ভালো প্রস্তুতি নিতে চাই এবং অবশ্যই চাইব তাদের হারাতে। আর সত্যিকারের লক্ষ্য হলো ভারতকে হারানো।’

তিনি যোগ করেন, ‘নেপাল এখন ভালো করছে। ফলাফলের দিক থেকে তারা হয়তো খুব এগিয়ে নেই, তবে তারা শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে আমাদের নেপালে তাদের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। আমরা আসলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলতে চাচ্ছিলাম, যারা হয়তো কিছুটা শক্তিশালী ছিল। কিন্তু একটা কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। তাই নেপালকেই আমরা ভালো চ্যালেঞ্জ হিসেবে ভাবছি।’

সাম্প্রতিক সময়ে ঘুরেফিরে ৩০ জন ফুটবলারের মধ্য থেকেই কাবরেরা বেছে নিচ্ছেন ২৩ সদস্যের স্কোয়াড। কেন তার নজর বাইরে নেই? এ প্রশ্নে কোচ বলেন, ‘আসলে খুব কাছাকাছি সময়ে তিন ফিফা উইন্ডো। ভারতের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে আমরা যে ধরনের কাজ করেছি, সেটাই এখনো চালিয়ে যাচ্ছি। একইভাবে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। তাই খুব বেশি রদবদলের সুযোগ নেই। তাছাড়া এখন নিয়মিত কোনো ঘরোয়া লিগ বা প্রতিযোগিতা হচ্ছে না। যেখানে নতুন খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেখা যেত এবং তাদের জাতীয় দলে ডাকা যেত। তাই প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশ খেলোয়াড় গত তিন মাসে একই থেকেছে। এটা ভালো ব্যাপার। দল ভালো পারফর্ম করছে, যদিও প্রত্যাশিত ফল পাচ্ছি না।’

ঘরোয়া লিগ বিরতি দিয়ে হওয়ার পেছনে অনেকটা দায় কাবরেরার নিজেরই। সারা দুনিয়াকে অনুসরণ না করে তিনি চান জাতীয় দলের ক্যাম্প লম্বা করতে। কোচের ইচ্ছে পূরণে বাফুফে বাধ্য হয় ঘরোয়া লিগসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্ট বন্ধ রাখতে। এখানেও তিনি দায় এড়াতে চাইলেন এই বলে, ‘যেহেতু ঘরোয়া লিগ হচ্ছে না, তাই খেলোয়াড়রা নিয়মিত অনুশীলনে থাকছে না। অনেক সময় ক্লাবগুলো তাদের এক-দুই সপ্তাহ বিশ্রাম দেয়। যদি আমরা তাদের এতটা বিশ্রাম দিই, তাহলে তাদের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স কমে যাবে এবং পরে ভারত বা নেপালের বিপক্ষে খেলার সময় আমরা সমস্যায় পড়ব। তাই তাদের ক্যাম্পে রাখা।’

সম্প্রতি যমজ সন্তানের বাবা হয়েছেন কাবরেরা। ভারতকে ১৮ নভেম্বর হারানোর পর জোড়া উদযাপন করতে চান তিনি। রসিকতা করেই বললেন, ‘ভারতের বিপক্ষে জয়ের পর, আমরা আপনাদের আমন্ত্রণ জানাব। অবশ্যই। হ্যাঁ, অবশ্যই মিষ্টি খাওয়াব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত