দুমকি উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় অনিয়মের আখড়া

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৫, ০২:১২ পিএম

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে চলছে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার মহোৎসব। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রতিনিয়ত। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না প্রকৃত উপকারভোগীরা বরং সুবিধাভোগী হয়ে উঠেছেন কিছু নামধারী খামারিরা। অবশ্য অভিযোগ মানতে নারাজ উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস। জনবল সংকটে প্রকল্পের কাজ-কর্মে কিছুটা শৈথল্যে থাকলেও অনিয়মের প্রশ্রয় নেই। 

জানা গেছে, দুধ, ডিম, মাংস উৎপাদন বৃদ্ধিসহ খামার উন্নয়ন প্রকল্প, বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ ও অনুদান কর্মসূচি, পশুখাদ্য ও ওষুধ বিতরণসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা চরমে উঠেছে।  

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের উপকরণ বিতরণে নিয়ম মানা হয় না, বরং তালিকা প্রস্তুতে চলে পক্ষপাতিত্ব। অনেক সময় মাঠপর্যায়ে প্রকৃত খামারিয়া অনুদানের খবরই পান না।

অভিযোগ রয়েছে, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারী দালালের মাধ্যমে উপকরণ বিতরণ, টেন্ডার ও কাজ বণ্টনের সিদ্ধান্ত হয়। এতে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে না। এমনকি কিছু প্রকল্পে কাগজে-কলমে খামার উন্নয়ন দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজই হয়নি বলে জানা যায়।

দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের খামারি মো. হুমায়ুন কবির হাওলাদার, ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মজিবর মৃধা, বজলুর রহমান মৃধা, চরবয়েড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম মৃধাসহ বেশ কয়েকজন খামারি অভিযোগ করে বলেন, প্রাণী সম্পদ অফিসে গেলে সঠিক তথ্য বা পরামর্শ পাওয়া যায় না। অনুদানের আবেদন করলে তালিকায় নাম আসে না, বরং যারা অফিসে নিয়মিত ওঠাবসা করেন, তারাই সুবিধা পান। 

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. অশোক হালদার বলেন, এখানে এলডিপি ২০১৯ থেকে ২০২৬ সনের ৩০জুন পর্যন্ত প্রাণী সম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে। এ প্রকল্পে যারা পিজি গ্রুপে আছে বিভিন্ন ট্রেনিং ও প্রণোদনা সুবিধা তারা পাচ্ছেন। উপজেলায় ৮টি পিজি গ্রুপ-শ্রীরামপুর ইউনিয়নে ৩টা, লেবুখালী-১টা, মুরাদিয়া-২টা, আঙ্গারিয়া ও পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে ১টা করে গ্রুপ আছে। পিজি-প্রোডিউসার গ্রুপে গড়ে ৩০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী তাদের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। আগে কি হয়েছে জানিনা, আমি যোগদানের পর থেকে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, কেউ বঞ্চিত নয়।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, প্রাণী সম্পদ খাতে দুর্নীতি বন্ধ ও সেবার মান উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। নিয়মিত মনিটরিং ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে সরকারি প্রকল্পের অর্থ অপচয় অব্যাহত থাকবে, উপকার পাবেন না প্রকৃত খামারিরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত