কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মুখোমুখি লড়াই হতে যাচ্ছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চার বারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিপরীতে লড়বেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও তরুণ রাজনীতিক হাসনাত আবদুল্লাহ।
এ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী হয়েছেন দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ।
বিএনপি সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করলে বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেবীদ্বার আসনে এবার ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। এনসিপির তরুণ প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ ইতোমধ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ‘উঠানে রাজনীতি’ নামের কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি সরাসরি মানুষের কাছে যাচ্ছেন এবং এনসিপির পক্ষে ভোট চাচ্ছেন। তার নির্দেশে স্থানীয় নেতা কর্মীরা উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছেন।
অন্যদিকে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনটি ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ছিল বিএনপির দখলে। ওই সময় টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও ন্যাপ প্রধান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদকে পরাজিত করে প্রথম বারের মতো এমপি হন। পরবর্তী সময়ে তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নকাজের মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এবং আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত করেন।
১/১১–এরপর রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দী হতে হয় এই বিএনপি নেতাকে। মামলা জটিলতার কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে পারেননি। তখন ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তার সহধর্মিণী মাজেদা আহসান মুন্সী। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এবিএম গোলাম মোস্তফা বিজয়ী হন।
২০১৮ সালের নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে এই আসনে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতনকে ছাড় দেয় বিএনপি। ফলে আসনটি পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়নি।
নতুন নির্বাচনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ফের উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তারা আশা করছেন, দীর্ঘদিন পর দেবীদ্বার আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।
এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেবীদ্বার থেকে আমি প্রার্থী হচ্ছি। সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি আমি উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। বিশ্বাস করি, দেবীদ্বারের মানুষ পরিবর্তনের রাজনীতি দেখতে চায়। এনসিপির নতুন রাজনৈতিক ধারণা এখানে ভালো সাড়া ফেলবে।
অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে দেবীদ্বারবাসী আমাকে যেভাবে ভালোবেসেছেন, আমি বিশ্বাস করি আজও সেই ভালোবাসা অটুট। আমার সময়কালে দেবীদ্বারে শিক্ষা, সড়ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন আশপাশের উপজেলাগুলোকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এবারও আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আগামী রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানকে এই আসন উপহার দিতে পারব ইনশাআল্লাহ।
বাগদানের আংটি প্রকাশ্যে আনলেন রাশমিকা
'কিছু বলছিনা মানে এই না বলতে পারিনা', জাহানারাকে ইঙ্গিত করে জ্যোতির পোস্ট