‘কাপড় টানিয়ে শৌচাগার, পরিবার নিয়ে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস’এই শিরোনামে দেশ রূপান্তরে একটি সংবাদ প্রকাশের পর নজরে আসে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমানের।
তিনি বৃদ্ধ আবুল কাশেমের পরিবারের জন্য স্বাস্ব্যসম্মত একটি শৌচাগার নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জনতার ঈশ্বরগঞ্জর স্বেচ্ছাসেবকদের। সে অনুযায়ী কাজ শুরু করে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে ইউএনওর অর্থায়নে স্বাস্ব্যসম্মত শৌচাগারটি আবুল কাশেমের পরিবারের হাতে হস্তান্তর করে সংগঠনের সদস্যরা।
শৌচাগার পেয়ে অসহায় আবুল কাশেম বলেন, পেশায় আমি রাজমিস্ত্রির যোগালির করতাম। কিন্তু স্টোক করার পর থাইক্যা আর কোনো কামকাজ করতে পারি না। বউ-পোলাপান লইয়্যা থাকার বালা (ভালো) একটা ঘরও করার সুযোগ পাইছি না। বালা একটা টয়লেটও আছিন না (ছিল না)। পানি খাওনের একটা কলও (টিউবওয়েল) আছিন না। গ্রামের মানুষের কাছে হাত পেতে এখন কপালে ভাত জুটে। এই অবস্থায় ইউএনও ম্যাডাম আমারে ভালো একটা টয়লেট করে দিছেন। শুকনা খাবারও দিয়েছেন। আল্লাহ ম্যাডামের মঙ্গল করুন, মন থাইক্যা এ দোয়া করি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, আমাদের কাজ মানুষের সেবা করা। সেই সেবা যদি সঠিক মানুষকে করতে পারি তখন আত্মতৃপ্তি পাই।
তিন শতাংশ জায়গায় টিনের মাচাতে পাটশোলার বেড়ায় তৈরি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করে কাশেমের (৫১) পরিবার। রোদ,বৃষ্টি আর কুয়াশা ঠেকাতে ঘরের পাটশোলার বেড়ায় মুড়ানো হয়েছে শামিয়ানার কাপড়। ঘরে মাঝারি আকারের একটি চৌকিতে তিন ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে বসবাস করছেন বৃদ্ধ আবুল কাশেম। কাপড় মুড়িয়ে তৈরি করা হয়েছিল একটি শৌচাগার। ছিল না সুপেয় পানির ব্যবস্থাও। এমতাবস্থায় দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর সেই আবুল কাশেমের পরিবারকে শৌচাগার করে দেন ইউএনও।
