বেলজিয়ামের আকাশের রহস্যজনক ড্রোনের একের পর এক উপস্থিতিতে স্থবির বিমান যোগাযোগ। রাজধানী ব্রাসেলস ও লিয়েজ বিমানবন্দরে রাতভর ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় শত শত যাত্রী বিপাকে পড়েন। ইউরোপজুড়ে সমন্বিত ড্রোন হামলার আশঙ্কায় ঘটনাটি এখন জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে সন্দেহভাজন কয়েকটি ড্রোন বিমানবন্দরের আকাশে দেখা গেলে সতর্কতামূলকভাবে সব ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে প্রায় ৫০০ যাত্রীকে রাত কাটাতে হয় ব্রাসেলস বিমানবন্দরে। বুধবার সকালে ধীরে ধীরে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বেলজিয়ামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নার কুয়েন্টিন জানিয়েছেন, কতগুলো ড্রোন জড়িত ছিল এবং কারা এ ঘটনার পেছনে আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।
জার্মানি ও ডেনমার্কসহ ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে সাম্প্রতিক সময়ে অনুরূপ ড্রোন দেখা গেছে। বেলজিয়ামের ক্লেইন-ব্রোগেল সামরিক ঘাঁটির আকাশেও সম্প্রতি ড্রোন উড়তে দেখা যায়—যেখানে ধারণা করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র সংরক্ষিত রয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী থিও ফ্রাঙ্কেন একে ‘পেশাদারভাবে পরিচালিত সমন্বিত অভিযান’ বলে উল্লেখ করেছেন, যার উদ্দেশ্য জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা।
এছাড়া হেভারলি এলাকার এক সামরিক ব্যারাকের কাছেও নতুন করে ড্রোনের উপস্থিতির অভিযোগ তদন্ত করছে পুলিশ, যদিও এখনো তা নিশ্চিত করা যায়নি। চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এসব ঘটনার পর বেলজিয়ামে জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
