চট্টগ্রামে নগরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাকে নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড ঘটেছে। ওই নেতার নাম ফয়সাল খান। রবিবার (৯ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে কিছু যুবক তাকে নগরের বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালের নিচতলা থেকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে নগরের পাঁচলাইশ থানা কার্যালয় থেকে ২০০ ফুট পূর্বে।
থানা পুলিশের ভাষ্য, একটি অপহরণকারী চক্র ছাত্রলীগের ওই নেতাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার নামে 'অপহরণ' করে চট্টগ্রাম শহর থেকে অন্তত ২৫ কিলোমিটার দূরে রাউজানে নিয়ে যায়।
থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান সোমবার বিকেলে সাড়ে চারটার দিকে দেশ রূপান্তরকে বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা ফয়সাল খানকে অপহরণ করে রাউজান নিয়ে গিয়ে তার পরিবারের কাছে মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করে। পরে পুলিশের চাপের মুখে ১৫/১৬ ঘণ্টা পর অপহরণকারীরাই ছাত্রলীগের ওই নেতাকে থানায় এসে দিয়ে যান।
সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, ছাত্রলীগ নেতাকে কি সত্যিই মুক্তিপণের অপহরণ করা হয়েছিল, নাকি পুলিশে সোপর্দ করার জন্য তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয়েছিল? তাহলে তারা ২০০ ফুট দূরের থানায় ফয়সালকে সোপর্দ না করে ২৫ কিলোমিটার দূরে রাউজানে কেন নিয়ে যাওয়া হলো? আবার পুলিশের 'চাপে' তাকে ১৬ ঘণ্টা পর অভিযুক্তরাই কেন ছাত্রলীগের নেতাকে থানায় আনলেন?
এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে সোমবার সন্ধ্যায় পাঁচলাইশ থানায় যান দেশ রূপান্তরের এই প্রতিবেদক। ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
তবে তিনি (ওসি) বলেন, ফয়সাল খান নামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাকে রবিবার রাতে বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতাল জোরপূর্বক তুলে যাওয়ার অভিযোগে ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাদের নাম জানাননি তিনি।
ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাইলে লুকোচুরি করেন তিনি। তিনি বলেন, সব গণমাধ্যমে এ ঘটনার প্রেস রিলিজ দেওয়া হবে। এর আগে আপনাকে (প্রতিবেদক) কোনও তথ্য দেওয়া যাবে না।
এ কথা বলার দুই ঘণ্টা পরেও গণমাধ্যমে কোনো প্রেস রিলিজ পাঠাননি ওসি। এ ব্যাপারে রাত ৮ টার দিকে মোবাইলে কল করলেও সাড়া দেননি ওসি সোলাইমান।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী ফয়সাল খান কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি। তিনি থাকেন চট্টগ্রাম শহরে। একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি। গতকাল রবিবার রাত ৯টার দিকে পেশাগত কাজে তিনি গিয়েছিলেন পার্কভিউ হাসপাতালে।
এদিকে 'অপহরণের' অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে দুজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন আদব ও আহাদ। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি৷ আহাদের এক স্বজন এ ঘটনায় ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানের ভূমিকা রহস্যজনক বলে মন্তব্য করে বলেন, ওসি ঘটনাটি নিয়ে বেশ লুকোচুরি করছেন। ফয়সালকে অপহরণ করা হলে অপরাধীরা কি থানায় এসে ধরা দেবে?
এদিকে ফিল্মি স্টাইলে হাসপাতাল থেকে ছাত্রলীগ নেতাকে তুলে নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে নগর পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, পার্কভিউ হাসপাতাল থেকে পাঁচলাইশ থানার দূরত্ব ২০০ ফুট। যারা ছাত্রলীগ নেতাকে তুলে নিয়ে গেল তারা ২০০ ফুট দূরত্বে থানা পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর না করে ২৫ কিলোমিটার দূরে রাউজানে কেন নিয়ে গেল?
