ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সান্তোসে নেইমারকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ফ্ল্যামেঙ্গোর বিপক্ষে সাম্প্রতিক ম্যাচে নেইমারের আচরণ নিয়ে সতীর্থ ও কোচের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এসেছে। দল যখন ব্রাজিলের শীর্ষ লিগ ব্রাজিলেরিওতে অবনমন অঞ্চলে টিকে থাকার লড়াই করছে, তখন দলের অধিনায়কের এমন আচরণ নিয়ে ক্লাবজুড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো এস্পোর্তে’ জানায়, ফ্ল্যামেঙ্গোর বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে হারের ম্যাচে নেইমার সতীর্থদের প্রতি ‘অসঙ্গত ও অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া’ দেখান। তিনি বারবার মাঠে সতীর্থদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এমন আচরণের কারণে সতীর্থরা নিজেদের ‘হেয়’ বোধ করেছেন বলে জানা গেছে।
ম্যাচ চলাকালে আর্জেন্টাইন সতীর্থ আলভারো বারিয়াল বল না দেওয়ায় নেইমার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান। পরে গোলকিপার ব্রাজাও ও ডিফেন্ডার জে ইভালদোর একটি ভুলের পরেও তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এমনকি বদলি নেওয়ার সময় নেইমার সরাসরি কোচ হুয়ান পাবলো ভোজভোদাকে প্রশ্ন করেন—‘আমাকেই নামাচ্ছেন?’ এরপর মাঠ ছেড়ে সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যান।
ক্লাব সূত্র জানিয়েছে, নেইমারের এই আচরণ সতীর্থদের কাছে ‘উপহাসের মতো’ মনে হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, অধিনায়ক হিসেবে নেইমার এমন সংকটময় সময়ে দলের মধ্যে স্থিতি আনার বদলে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করছেন। তবে সান্তোস কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রকাশ্যে না এনে অভ্যন্তরীণভাবে সমাধান করেছে বলে দাবি করেছে। নেইমারও নাকি পরে সতীর্থদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
নেইমার জানিয়েছেন, তার মূল ক্ষোভ ছিল রেফারিং সিদ্ধান্ত নিয়ে, সতীর্থদের বিপক্ষে নয়। তবে তার ম্যাচপূর্ব আচরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ তিনি দলের সঙ্গে শুক্রবার রিও দে জেনেইরো ভ্রমণ করেননি, বরং শনিবার একা পৌঁছান। ক্লাব পরে জানায়, এটি ছিল চিকিৎসকদের পরামর্শে নেওয়া সিদ্ধান্ত। এ মৌসুমে নেইমার এখন পর্যন্ত সান্তোসের হয়ে ১৫টি ম্যাচ খেললেও ১৭টি ম্যাচে বাইরে ছিলেন।
নেইমারকে ঘিরে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন হলো—তিনি যতটা পারতেন, ততটা অবদান রাখতে পারেননি। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোচ ভোজভোদা, ফরওয়ার্ড গিলহের্মে এবং ক্লাবের পরিচালক আলেক্সান্দ্রে ম্যাটোস ঘটনাটি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন, যাতে দলের বর্তমান সংকটে আরও বিভাজন না হয়। তবুও বিতর্ক থামেনি। বরং নেইমারকে ঘিরে এই বিতর্ক সান্তোসের ড্রেসিংরুমে নতুন চাপ তৈরি করেছে।
পরিচালক ম্যাটোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেইমারকে সমর্থন জানিয়ে লেখেন, ‘ভাই, তুমি কখনো একা নও… আমি আছি তোমার পাশে, জীবনের প্রতিটি লড়াইয়ে।’ অন্যদিকে ব্রাজিলের সাবেক কোচ ভানদেরলে লুক্সেমবুরগো নেইমারের আচরণকে সমালোচনা করে বলেন, ‘নাম ভারী হতে পারে, কিন্তু উদাহরণই সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলে।’
দ্বিতীয় দিনে মাত্র ১৪ বলেই শেষ আয়ারল্যান্ডের প্রথম ইনিংস
জাতীয় দলে যোগ দিতে কানাডা থেকে দেশে ফিরলেন শমিত সোম
অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ