এনআইডি জালিয়াতি ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা: দুদকের 

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:১৬ পিএম

চট্টগ্রামে জালিয়াতির মাধ্যমে এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) তৈরি করে সরবরাহের অভিযোগে সাবেক এক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

বুধবার (১২ নভেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক অংটি চৌধুরী চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন। দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ।

মামলার আসামিরা হলেন, চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানার সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ডের সাবেক জন্ম নিবন্ধন সহকারী পিন্টু কুমার দে এবং জালিয়াতির মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া আবদুল জলিল। আশরাফুল আলম বর্তমানে ফেনীর অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। 

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আবদুল জলিল নামে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ২০১১ সালের ২২ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ডে জন্ম নিবন্ধন করেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ১৪ মে একই ব্যক্তি আবারও একই ওয়ার্ড থেকে জন্ম নিবন্ধন করেন। সেই জন্ম নিবন্ধনের ভিত্তিতে তিনি পরবর্তীতে চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানা নির্বাচন কর্মকর্তা কার্যালয়ে আবেদন করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পান।

অনুসন্ধান করে দুদক জানতে পারে, আবদুল জলিল নির্বাচন কমিশনে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের আবেদনে স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করেছেন- চট্টগ্রামের পটিয়া  পৌরসভা। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে তিনি যে জন্ম নিবন্ধন জমা দিয়েছেন সেখানে স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ আছে- কক্সবাজার জেলার চৌফলদন্ডী এবং বর্তমান ঠিকানা হিসেবে চট্টগ্রাম নগরের শুলকবহর আব্দুল লতিফ রোড উল্লেখ আছে। কিন্তু জন্ম নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানায় আবদুল জলিল ও তার পরিবারের সদস্যদের কখনো বসবাসের কোনও তথ্য পায়নি দুদক। দুদকের অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, আবদুল জলিল ও তার পূর্বপুরুষদের বাংলাদেশি নাগরিকত্বের কোনও বৈধ রেকর্ডপত্র নেই। তার কোনও জাতীয়তা সনদ নেই। তিনি কক্সবাজারের  চৌফলদন্ডীতে জন্মগ্রহণ করেছেন দাবি করলেও এর সপক্ষে  কোনও রেকর্ডপত্র নেই। 

মামলার অভিযোগ করা হয়েছে, আবদুল জলিল ২০১১ সালে  বৈধ কোনও নথিপত্র জমা না দিয়ে চট্টগ্রাম নগরের ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ডের তৎকালীন জন্ম নিবন্ধন সহকারী পিন্টু কুমারের সাথে যোগসাজশ করে জন্ম নিবন্ধন করেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও জন্ম নিবন্ধন সহকারীর স্বাক্ষর জাল করে জন্ম নিবন্ধন করেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুল আলম নির্বাচন কমিশনে কোনও রেকর্ডপত্র জমা না দিয়ে কার্যালয়ের নিজের ব্যবহৃত ল্যাপটপ ব্যবহার করে জাল জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়ে আবদুল জলিলের জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত