নির্বাচনে নির্ভয়ে জনরায়ের প্রতিফলন চায় বৃহত্তর সুন্নী জোট

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:৩৫ পিএম

বৃহত্তর সুন্নী জোটের নেতারা বলেছেন, সরকার ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী দেশের জনগণ অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকারের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু জুলাই সনদ নিয়ে বিভাজন ও নানা বিতর্কের কারণে এখন দেশের মানুষ একটি পাতানো নির্বাচনের আশঙ্কা করছে। এই বিভাজন ও বিতর্ক দূর করে নির্বাচনে নির্ভয়ে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

জোটের পক্ষ থেকে ঘোষিত ১৩ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী শনিবার লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠেয় জনসভাকে সামনে রেখে বুধবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এ কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে জনসভা প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা আবদুন নবী বলেন, “দুই হাজার চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের পর ক্ষমতার পরিবর্তনের কারণে দেশের অর্থনৈতিক দুরাবস্থা, মব ভায়োলেন্স, মসজিদ-মাজারে আক্রমণ, বেকারত্ব বৃদ্ধি ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে জনগণ হতাশ হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার পর জনগণ অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশায় আশান্বিত হয়েছিল। কারণ—পতিত সরকারের অধীনে জনগণ তিনটি জাতীয় নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে পারেনি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার কাঙ্ক্ষিত রোডম্যাপ ঘোষণার পর রাজনীতির মাঠে দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন কেন্দ্রিক ঐক্যমত্যের পরিবর্তে বিদ্যমান সাংবিধানিক নির্বাচনী ব্যবস্থা, পি আর পদ্ধতি ও গণভোটসহ নানা প্রশ্নে চরম বিভক্তি দেখা দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৫ মাসে মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যা করা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও মসজিদে ইমামদের হেনস্থা ও পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে উল্লাস করা হয়েছে। শতশত মাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও প্রকাশ্যে লুটপাট হয়েছে, অথচ প্রশাসন নির্লিপ্ত। এই ১৫ মাসে নতুন করে এক লক্ষ ষাট হাজার উচ্চশিক্ষিত যুবক-যুবতী বেকার হয়েছেন। ৩৫৩টি শিল্প কারখানা বন্ধ হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিবর্তে চলছে ছাটাই। কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমদানি-রপ্তানি থমকে যাচ্ছে। মামলা বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি, লুটপাট ও আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি ক্রমবর্ধমান হচ্ছে।”

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এইচ এম মুজিবুল হক শাকুর, অধ্যাপক মীর আবদুর রহিম মুনিরী ও মাওলানা এম ওয়াহেদ মুরাদ।

এতে জোট নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এ এম মঈনউদ্দিন চৌধুরী হালিম, মাওলানা জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, এম নাছির উদ্দিন মাহমুদ, মাওলানা মোজাম্মেল হোসেন প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত