সেপ্টেম্বরে নেপালে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে গিয়ে কী বিপাকেই না পড়তে হয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয় দলকে। কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালায় ৬ সেপ্টেম্বর প্রথম প্রীতি ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়। এর পরের দিনই পাহাড় ঘেরা শান্ত দেশটি হঠাৎ করেই অশান্ত হয়ে পড়ে তরুণদের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে। দুদিনের মধ্যে তীব্র আন্দোলনের মুখে পতন ঘটে সে দেশের সরকারের। এই আন্দোলনে বাতিল হয়ে যায় ৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ম্যাচটি। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধ হওয়ায় বাংলাদেশ দল আটকা পড়ে কাঠমান্ডুতে। এরপর সরকার, বিমান বাহিনী ও বাফুফের প্রচেষ্টায় বিশেষ বিমানযোগে দেশে ফেরানো হয় বাংলাদেশ দলকে। স্মরণীয় সেই সফরে একটি ম্যাচ খেলতে না পারার আক্ষেপ অবশ্য দূর হয়ে যাচ্ছে বৃহস্পতিবার। দুদল ফের মুখোমুখি হচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে। তবে এবার কাঠমান্ডু নয়, খেলাটা হবে ঢাকা স্টেডিয়ামে। রাত ৮টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি দুদলের জন্যই ১৮ নভেম্বর এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের প্রস্তুতি মঞ্চ।
বাংলাদেশ ১৮ নভেম্বর এ মাঠে মোকাবিলা করবে ভারতের। অন্যদিকে একই দিনে নেপাল কুয়ালালামপুরে খেলবে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে। মূল লক্ষ্য যখন ১৮ নভেম্বর, তখন আজকের ম্যাচে দুই কোচই চাইবেন শিষ্যদের যাচাই করে নিতে।
শেষ ম্যাচটি যেহেতু কেউই জেতেনি, তাই জয়ের তাড়না থাকবে দুদলেরই। তাড়নাটা বাংলাদেশের খানিকটা বেশি। নেপালকে অনেকদিন হারানো হয়নি। সর্বশেষ ২০২০ সালের নভেম্বরে ঢাকায় বাংলাদেশ জিতেছিল ২-০ গোলে। এরপর খেলা ছয় ম্যাচে নেপাল দুই ম্যাচে জিতেছে, ড্র হয়েছে চার ম্যাচ। সেপ্টেম্বরের ড্রয়ের আগের ম্যাচে ৩-১ গোলে হারের লজ্জা পেতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। কাঠমান্ডুতে সে ম্যাচে অনন্ত তামাং হ্যাটট্রিক করেছিলেন।
অনন্ত আছেন আজকের ম্যাচেও। আরও অনেকেই আছেন, যাদের কাছে ঢাকার জল-হাওয়া বেশ পরিচিত এখন। বাংলাদেশ ফুটবল লিগে বিভিন্ন দলে খেলা নেপালিদের মধ্যে সাতজন আছেন নেপালের বর্তমান স্কোয়াডে। তাই এ ম্যাচটা সহজ হবে না বাংলাদেশের জন্য।
এ ম্যাচের আগে চোট ভাবাচ্ছে বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরাকে। চোট আছে ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিনের। এছাড়া দুই হলুদ কার্ডের জন্য এবারের উইন্ডোতে দলে নেই ইতালি প্রবাসী ফাহামিদুল ইসলাম। গত মাসে হংকং চায়নার বিপক্ষে ১-১ ড্র ম্যাচের একাদশে নিশ্চিত পরিবর্তন আসছে।
নেপালের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। সেপ্টেম্বরে যে বাংলাদেশকে ঘরের মাঠে পেয়েছিল তারা, সেই বাংলাদেশ এখন অনেক শক্তিশালী হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমের সংযুক্তিতে। দুই প্রবাসী নেপালে সে ম্যাচ খেলেননি। তবে আজ তাদের খেলার জোর সম্ভাবনা আছে।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটাকে পাখির চোখ করা কাবরেরা বলেন, ‘আমরা কয়েকটি অনুশীলন সেশন করেছি। আগামীকাল (আজ) একটা প্রস্তুতি ম্যাচ আছে, যা আমাদের জন্য দারুণ এক পরীক্ষা হবে যাতে আমরা ১৮ তারিখ ভারতের বিপক্ষে মূল ম্যাচের জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত হতে পারি।’
এ ম্যাচে নেপালকে হারিয়ে জয়ের মানসিকতা গড়তে চাচ্ছেন অধিনায়ক জামাল ভ‚ঁইয়া। জুনে ঘরের মাঠে ভুটানকে হারানোর পর টানা চার ম্যাচ জয়শূন্য ছিল বাংলাদেশ। জামাল তাই আজ জয়ের বিকল্প দেখছেন না, ‘যদিও আমাদের মূল লক্ষ্য ভারত ম্যাচ, তবে তার আগে আমরা নেপালের বিপক্ষে জিততে চাই। কারণ আমরা জয়ের মানসিকতা তৈরি করতে চাই। শেষ কয়েকটা ম্যাচ জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও পারিনি।’
কাবরেরা শেষ কয়েক ম্যাচে জয় ছুঁতে না পারা নিয়ে আক্ষেপ করেছেন, ‘আমরা ভালো পারফর্ম করছি, কিন্তু জয়টা পাচ্ছি না। তাই নেপালের বিপক্ষে আমরা অনেকগুলো বিষয় প্রয়োগ করতে চাই, যেগুলো ভারতের ম্যাচে দেখতে চাইব। আমরা বিশ্বাস করি আমরা সঠিক পথে আছি।’
নেপাল কোচ হরি খড়কাও মনে করেন হামজা-শমিতদের কারণে এই বাংলাদেশকে আগের বাংলাদেশের সঙ্গে মেলানো যাচ্ছে না, ‘বাংলাদেশ-নেপাল ম্যাচ সবসময় চ্যালেঞ্জিং। এখন হামজা ও অনান্য খেলোয়াড় যোগ হয়েছে, তাতে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ একটা দল।’ তাই বলে নিজের শিষ্যদের পিছিয়ে রাখছেন না খড়কা, ‘তবে আমরা তাদের নিয়ে ভীত নই। কেননা, ফুটবল একটা দলীয় খেলা। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের মূল্য আছে, কিন্তু দিন শেষে এটা দলীয় খেলা। আমরা আগামীকালের (বৃহস্পতিবারের) ম্যাচের জন্য প্রস্তুত।’
১২ বছর পর ফেরা বিপিএলের নিলাম পিছিয়ে ২৩ নভেম্বর
হাথুরুসিংহের পরামর্শেই সাদমানের বদলে যাওয়া