কুষ্টিয়ায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আবাসনের শেড ভেঙে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণ চলছে। এই দোকানঘর অগ্রিম বিক্রি করে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে জেলা ও পৌর প্রশাসকের বিরুদ্ধে।
সড়ক বিভাগের দাবি, পৌর প্রশাসক এখতিয়ারবহির্ভূত ক্ষমতায় সেখানে আবাসনের শেড ভেঙে দোকানঘর নির্মাণ করছেন। এ ঘটনায় সীমানা নির্ধারণ করে সওজের জায়গা ছেড়ে দিয়ে অবকাঠামো নির্মাণের অনুরোধ করে পৌর প্রশাসকের কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
অবকাঠামো নির্মাণকারীদের দাবি, কলেজ মোড়ে ইতিপূর্বে বহুদিন ধরে পৌরসভাকে রাজস্ব দিয়ে রাস্তা ও ড্রেনের ওপর দোকানঘরে ব্যবসা করে আসছেন তারা। হঠাৎ সড়ক প্রশস্ত করতে দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে তারা ব্যবসায়িক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পৌর প্রশাসকের পরামর্শেই এসব দোকানঘর তুলছেন।
তবে পৌর প্রকৌশল বিভাগ বলছে, ওইসব দোকান নির্মাণে পৌরসভা থেকে কোনোরূপ প্লানিং, ড্রয়িং, ডিজাইন দেওয়া হয়নি। কীভাবে সেখানে দোকানঘর নির্মিত হচ্ছে তার কোনো দাপ্তরিক তথ্য নেই। এ ব্যাপারে পৌর প্রশাসক ভালো বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক মিডিয়ার মুখোমুখি হতে রাজি হননি। তবে জেলা প্রশাসক বলছেন, সড়ক বিভাগ ও পৌরসভা যৌথভাবে সীমানা চিহ্নিত করবে। সওজের জমিতে অবৈধ কোনো অবকাঠামো হলে তা উচ্ছেদ করা হবে।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার ব্যানারে সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালনসহ প্রতিকার দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে জেলা প্রশাসককে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শহরের ব্যস্ততম এলাকা কলেজ মোড়। শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, আদালতসহ জনগুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তার সংযোগস্থল। এখানে দীর্ঘদিন ধরে সীমাহীন যানজট। সম্প্রতি সেখানে সড়ক ও ড্রেনের ওপর থাকা অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করায় সাধারণ জনতা খুশি হয়। কিন্তু সেই সফলতা দুদিনের মধ্যেই পৌর ও জেলা প্রশাসক কর্তৃক মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পাশের সীমানায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের রেকর্ডীয় জমিতে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারিদের কোয়ার্টার ভেঙে দোকানঘর নির্মাণ শুরু করা হয়। আন্দোলনকারীদের অন্যতম সমন্বয়ক সুলতান মারুফ তালহার অভিযোগ, প্রতিটা দোকান বাবদ ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে ২১টি দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকার লেনদেন কীভাবে হয়েছে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী একে শামসুজ্জামান বলেন, ‘কলেজ মোড়ের ওইখানে যানজট নিরসনে সম্প্রতি পৌরসভার রাস্তা ও ড্রেনের ওপর থাকা দোকান ভাঙা হয়েছে। এর কয়েক দিনের মাথায় সেখানে কারা কীভাবে দোকানঘর করছে সেটা আমার জানা নেই। এ-সংক্রান্ত কোনো দাপ্তরিক কাগজপত্র প্রকৌশল বিভাগে নেই। তারপরও কীভাবে হচ্ছে তা একমাত্র পৌর প্রশাসক বলতে পারবেন।’
সড়ক ও জনপথ (সওজ) কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল করীম জানান, শহরের কলেজ মোড়ে সড়ক বিভাগের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের কোয়ার্টারের জমিটি তাদের রেকর্ডীয় সম্পত্তি। সেখানে শেড ভেঙে দোকান তৈরির সংবাদ শুনে তারা খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। দোকান নির্মাণকারীরা জানায়, পৌর প্রশাসক মিজানুর রহমানের অনুমতি নিয়ে তারা অবকাঠামো করছে। এ সংবাদ শুনে তাৎক্ষণিক ওই জমির সীমানা চিহ্নিতকরণসহ প্রতিকার চেয়ে পৌর প্রশাসক ও জেলা প্রশাসক দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ বিষয়ে পৌর প্রশাসক মিজানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
তবে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, ‘কলেজ মোড়ে নির্মাণাধীন দোকানের জমি কাদের সেটি সীমানা চিহ্নিতকরণসহ সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পৌর প্রশাসক ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের। সেখানে কোনো অবৈধ স্থাপনা করে থাকলে তা উচ্ছেদ করা হবে।’
