ময়মনসিংহ নগরীতে এক নারী যাত্রা নৃত্যশিল্পীকে প্রকাশ্যে রাস্তায় আটকিয়ে বেঁধে মারধর, চুল কেটে দেওয়া এবং মুখে কালি মেখে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার নৃত্যশিল্পীর নাম মোছা. রূপা। তিনি নগরীর বড় কালীবাড়ি এলাকার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নির্যাতিতা নারী কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাতে একজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম শাহ আলম (৪০)। তিনি নগরের চরকালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে এবং পারস্পরিক একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার বেশ কয়েকজন আসামি জামিনে থাকলেও বুধবার (১২ নভেম্বর) নতুন একটি মামলার তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল ছাড়ার পরই প্রতিপক্ষের লোকজন নৃত্যশিল্পী রূপাকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে বেঁধে নির্যাতন চালায়।
ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের অভিযোগ, রূপা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এলাকার একদল চাঁদাবাজের টার্গেট। তার ছেলে এ বছর অপহরণের শিকার হয়েছিল। এর আগেও প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর চালিয়েছে। এসব ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার অন্যতম আসামি শাহ আলম জামিন পেয়েছেন।
বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে রুপার বাড়ি ভাঙচুর মামলায় পুলিশ তদন্ত শেষ করে ফিরে যাওয়ার পর প্রতিপক্ষের লোকজন আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা অবস্থায় তাকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালায়। পরে তার সামনে টাকা ও মাদক রেখে ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তার স্বামী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, মামলা তদন্ত শেষে পুলিশ ফিরে আসার পরই তার ওপর হামলা হয়। ঘটনাটি ন্যক্কারজনক। এ ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান চলছে।
