এখনও লাল-সবুজ জার্সিতে জয়োল্লাস করা হয়নি শমিত সোমের। অভিষেক হয়েছিল জুনে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের হোম ম্যাচে। এর ক'দিন আগে ভুটানের বিপক্ষে জয়টা দেখেছেন গ্যালারিতে বসে। সে জয়ের পর বাংলাদেশ খেলেছে পাঁচ ম্যাচ। যার চারটিতে খেলেছিলেন শমিত। এই চারের তিনটিতেই জয়ের খুব কাছে গিয়েও পারেনি বাংলাদেশ। বিশেষ করে ঘরের মাঠে হংকং চায়না ও বৃহস্পতিবার নেপালের বিপক্ষে লিড নিয়েও শেষ মুহূর্তে গোল হজমে জয় বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। শেষ মুহূর্তে মুঠো গলে জয় বের হওয়াকে দলের বড় সমস্যা মানছেন শমিত। স্রেফ একটা জয় ধরা দিলেই শমিতের বিশ্বাস বদলে যাবে চিত্র।
নেপালের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা খেলেছেন শমিত। কানাডা থেকে দীর্ঘ ভ্রমণ করে এসে মাত্র এক সেশনে দলের সঙ্গী অনুশীলন করেন। তাই কোচ হাভিয়ের কাবরেরা তাকে পুরো সময় মাঠে রাখার ঝুকি নেননি। শমিত না থাকায় প্রথমার্ধে বাংলাদেশের মাঝমাঠ ছিল ভীষণ অগোছালো। উদ্দেশ্যহীন ফুটবলে বিরক্তি বাড়িয়েছিলেন দুই সোহেল রানা। বিরতির পর মাঠে এসেই বদলে দেন দৃশ্যপট। মাঝমাঠে প্রাণ ফিরিয়ে আনেন। হামজার অসাধারণ বাইসাইকেল গোলের সূত্রে ছিলেন শমিত।
নেপালের বিপক্ষে হামজার দুটি গোলই ছিল বিশ্বমানের। ৮০ মিনিটে হালকা চোট পেয়ে হামজা মাঠ ছাড়ার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রাধান্য বিস্তার করে খেলেছে। তিনি বের হয়ে যাওয়ার পর নেপাল পাল্টা আক্রমণ চালায়। সুবাদে তারা অতিরিক্ত সময়ে কর্নার আদায় করে নেয়। যে কর্নার থেকে ডিফেন্ডার ও গোলকিপার মিতুল মারমার ভুলে গোল হজম করে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে হামজার না থাকার সুবিধের কথাটা স্বীকার করেছিলেন নেপাল কোচ হরি খড়কাও।
হংকংয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠেও ঘটেছিল একই ঘটনা। ৩-৩ ড্র অবস্থায় অতিরিক্ত সময়ে ডিফেন্সের ভুল গোল হজম করে হারের পরিণতি বরণ করতে হয়। শমিতের চোখে শেষ মুহূর্তে মনযোগ নড়ে যাওয়াটাই জয়ী দল হওয়ার অন্তরায়। এ জায়গাটায় আরও একটু সতর্ক হলেই জয়টা ধরা দেবে, 'খুব জলদি; হয়তো আগামী ম্যাচেই (ভারতের বিপক্ষে) আমরা জয় উদযাপন করবো।' এরপর যোগ করলেন, 'আমার খুব ভালো লাগে টিমমেটদের সঙ্গে খেলতে, বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে। আর জয়টা যদি পাই, এটা সবকিছু আরো ভালো করে দিবে। আরো আনন্দ দিবে। মনে হবে যে, সবকিছু ভালো চলছে। আশা করি আগামী ম্যাচ শেষে উইনিং সেলিব্রেশন হবে।'
হামজা-শমিতের সংযুক্তিতে দলের শক্তি বেড়েছে। মানুষের আগ্রহও আকাশ ছুঁয়েছে। তারপরো কাঙ্ক্ষিত জয়টা আসছে না। শেষ মুহূর্তে গোল হজমের দায় আছে। দায় আছে কোচের অদ্ভুত কৌশলেরও। শমিত ভাগ্য শত্রুতা করা আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মনযোগ রাখতে না পারায় দায় দেখছেন, 'ভাগ্যটা আসলে আমাদের দিকে যাচ্ছে না। লাস্ট ম্যাচে যে কর্নার নেপাল পেয়েছে, ওটা মনে হয় অফসাইড ছিল। তবে ফুটবল এভাবেই হয়। আশা করছি আমরা ঐ লাকটা পাবো যে এভাবে গোল খেতে হবে না। মূল বিষয় হলো আমাদের আরো মনযোগী থাকতে হবে। ফোকাস থাকতে হবে ৯০ মিনিট, শেষ বাঁশি পর্যন্ত। এর জন্য আমাদের আরও একটু মনযোগ বাড়াতে হবে এবং প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা যে লাস্ট তিন-চারটা ম্যাচে খেলছি, বেশিরভাগ সময় আমরা লিডিং পজিশনে ছিলাম। তবে সেই অভিজ্ঞতাটা হয়নি যে আমরা লিড ধরে রেখে জিতেছি। বের করতে হবে ম্যাচটা কিভাবে শেষ করতে হবে। অর্থাৎ সত্যিকারে কী কী পরিবর্তন করতে হবে...। হয়তো একটু মাইন্ড গেম খেলতে হবে প্রতিপক্ষের সঙ্গে। সময় নষ্ট যদি করা যায়...। এগুলো আমরা এখনও শিখিনি। তবে ধীরে ধীরে শিখবো এবং জিততে পারবো।'
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবল লড়াইয়ের ইতিহাস কিছুটা জানা। এটাও জানা, মাঠে লড়াই হলেও বিগত ২২ বছর ভারতকে একবারও হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। জাতীয় দলে প্রথম দিন থেকেই ভারতের বিপক্ষে সেরারও বেশি কিছু দেওয়ার যে ব্যাপারটা থাকে, সেটা বুঝে গিয়েছিলেন শমিত, 'ভারতের বিপক্ষে জয় কতটা আরাধ্য তা আমি জানি। দু'দলের বড় একটা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে। কোচ আজকে বললো আমরা ২২ বছর জিতিনি তাদের সঙ্গে। এটাই তো সবচেয়ে বড় মোটিভেশন। সবাই জানে এই ম্যাচের অর্থ কি। এমনকি আমি যখন বাংলাদেশের জন্য খেলা শুরু করি, আমার মনে আছে প্রথম দিন আমাকে কেউ একজন বলেছিল ভারত ম্যাচের জন্য প্রস্তুত থাকতে। অথচ তখন আমাদের প্রতিপক্ষ ছিল সিঙ্গাপুর। এই ম্যাচের কথা আমাদের মাথায় অনেক আগে থেকেই ছিল। ভারত ভালো দল। তবে তাদেরও গ্যাপ আছে। এদের মিডফিল্ড লাইন এবং ডিফেন্স লাইনে গ্যাপ থাকে। ওই স্পেসের সুযোগটা কাজে লাগাতে হবে। এখন আমরা যেভাবে পাসিং ফুটবল খেলছি, ওই হাফ স্পেসগুলা পাচ্ছি।'
স্থানীয় ফুটবলারদের সঙ্গে প্রবাসীদের কোন ভেদাভেদ দেখেন না শমিত। তাদের সংযুক্তিতে কিছু কিছু উন্নতি হয়েছে ঠিক, তবে শমিত মনে করেন দলটা সবাই মিলেই এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন, 'আমাদের দল হলো এগোর জনের। এখানে দেশী-বিদেশী কোন ব্যাপার নেই। আমাদের সবার একসাথে থেকেই ম্যাচ জয়ের পথটা বের করতে হবে। আমাদের ভুল অভিজ্ঞতাগুলো থেকে শিখতে হবে যাতে এরকমটার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমরা কোনদিন চিন্তা করিনি যে বিদেশের খেলোয়াড় বনাম দেশী খেলোয়াড়। ওভাবে ভাবলে তো বাংলাদেশ জিততে পারবে না। আমাদের এক হয়ে থাকতে হবে।'
হামজা-শমিতদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্থানীয়রা নির্ভুল ফুটবল খেললেই অপেক্ষার জয়টা ধরা দেবে। শমিত যেটা ছুঁতে চান ভারতের বিপক্ষেই।
ইডেনে একদিনে ১৫ উইকেটের পতন, জয়ের স্বপ্ন ভারতের