এবার পাথর ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন আলোচিত শীর্ষ ‘সন্ত্রাসী’ মোহাম্মদ রায়হান। ওই ব্যবসায়ীকে রায়হান বলেন, ‘তোকে গুলি করে মারব না, ব্লেড দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মারব।’ হুমকি পাওয়া ব্যবসায়ীর নাম মো. একরাম।
আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর) সংবাদ মাধ্যমকে একরাম জানান, শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাত আটটার দিকে তাকে ফোন করেন ‘সন্ত্রাসী’ রায়হান। পরে হোয়াাটসঅ্যাপে পাঠানো খুদে বার্তায় তাকে ব্লেড দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মারার হুমকি দেন। ব্যবসায়ী একরাম বলেন, গত ১৫ মার্চ ঢাকার একটি শপিং মলে ঘুরতে দেখে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন তিনি। এরপর সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্না এবং বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ তাকে হুমকি দেন। হুমকির ঘটনায় তিনি পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেছিলেন। এরপর মামলা তুলে নিতে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
একরামের স্ত্রী রুমা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হুমকির পর রাতে বিষয়টি নগর পুলিশ কমিশনারকে বলার সঙ্গে সঙ্গে সোয়াত টিমসহ পুলিশের দল বাসার সামনে পাহারায় রয়েছে। আমার স্বামী এখন বাসা থেকে বের হচ্ছেন না। বের হলে সঙ্গে পুলিশ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।’
ছোট সাজ্জাদকে ধরিয়ে দিতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন। গত ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর তার বাহিনীর দেখভাল করছেন ‘সন্ত্রাসী’ রায়হান। তার বিরুদ্ধে জেলা ও নগরের বিভিন্ন থানায় ৮টি খুনসহ ১৫টি মামলা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ‘আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। এর আগেও হুমকির বিষয়ে মামলা করেছিলেন ব্যবসায়ী একরাম।’ রায়হানকে পুলিশ হন্য হয়ে খুঁজছে বলে জানিয়ে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, রায়হানের বিরুদ্ধে নগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।’
এর আগে গত ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ’র নির্বাচনী জনসংযোগে অংশ নেওয়া ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলাকে (৪৩) গুলি করে হত্যা করা হয়। এর তিন দিন আগে সরোয়ারকে ফোন করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে রায়হানের বিরুদ্ধে। বাবলা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এই রায়হান। কিছুদিন আগে বাবলার ছোটভাইকেও হত্যার হুমকি দেন। অতিসম্প্রতি রায়হান হত্যার হুমকি দিয়েছেন রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলামকেও।
এরও আগে গত ২৫ অক্টোবর মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরার সময় রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চারাবটতলে গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদল কর্মী আলমগীর আলমকে। এই হত্যা মামলায় রায়হানকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, রাজনৈতিক এই হত্যাকান্ডে রায়হান ভাড়াটে হিসেবে কাজ করেছেন। জীবিত অবস্থায় মোবাইলে আলমগীর আলমের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে আলমগীরকেও রায়হানের নাম উল্লেখ করে শঙ্কা প্রকাশ করতে দেখা যায়। পুলিশ জানায়, হত্যাচেষ্টার একটি মামলায় কারাগারে গিয়ে চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের সঙ্গে পরিচয় হয় রায়হানের। গত বছরের ৫ আগস্টের পর দুজন কারাগার থেকে জামিনে বের হন। এরপর ছোট সাজ্জাদের সঙ্গে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন রায়হান। সাজ্জাদ স¤প্রতি আবারও কারাগারে গেলে রায়হান তাঁর অস্ত্রভান্ডারের দেখভাল করছেন।
এর আগে গত ২৫ জুলাই নগরের কালুরঘাট এলাকার এক ওষুধের দোকানিকেও মোবাইলে হুমকি দেন রায়হান। তিনি ওই দোকানিকে বলেন, ‘আমি ঢাকাইয়া আকবর খুনের মামলার ২ নম্বর আসামি রায়হান, মাথার খুলি উড়ায় ফেলব। আকবর সি বিচে কীভাবে পড়ে ছিল তুই দেখছস? তুইও পড়ে থাকবি।’ চাঁদা না পেয়ে গত ১ আগস্ট চান্দগাঁও থানার মোহরা এলাকার এক ব্যবসায়ীকেও গুলি করার অভিযোগ ওঠে রায়হানের বিরুদ্ধে। মো. ইউনুস নামের ওই ব্যবসায়ী নদী থেকে বালু তোলার কাজে ব্যবহৃত খননযন্ত্রের ব্যবসা করেন।
