সখীপুরে খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৩৪ এএম

শীতের আমেজ চারদিকে জানান দিতেই টাঙ্গাইলের সখীপুরে শুরু হয়েছে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের কর্মব্যস্ততা। গ্রামবাংলার চিরায়ত এই দৃশ্য প্রতিবছরই শীতের আগমনী বার্তা হিসেবে মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। স্থানীয় গাছিদের পাশাপাশি রাজশাহী জেলা থেকে আসা গাছিরাও সকাল-সন্ধ্যা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন গাছ পরিষ্কার, কাটা ও রস সংগ্রহের কাজে।

গত রবিবার সখীপুর উপজেলার আড়াই পাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, খেজুর গাছের মাথায় উঠে দা, ছেনি (খোদাইয়ের অস্ত্র) ও পাতিল (মাটির কলস) নিয়ে রসের হাঁড়ি বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন কয়েকজন গাছি। গাছের বুক চিরে রস নামানোর যে সূক্ষ্ম কাজটি করতে হয়, তা দক্ষ হাতে করে যাচ্ছেন তারা।  

স্থানীয়রা জানান, আশ্বিন-কার্তিকের শেষ দিক থেকেই এই প্রস্তুতি শুরু হয় এবং পৌষ-মাঘ পর্যন্ত চলে রস সংগ্রহের মৌসুম।

উপজেলার বৃহত্তর গজারিয়া, দারিয়াপুর, কাকড়াজান, কালিয়া, বহেড়াতৈল, হাতীবান্ধা ও যাদবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামজুড়ে সকাল-বিকেল দেখা মিলছে গাছ প্রস্তুত ও রস সংগ্রহের ব্যস্ততা।

আড়াই পাড়া গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা ঈমান আলী বলেন, শীতের আগমন মানেই টাটকা খেজুর রসের ঘ্রাণ। ভোরবেলা হাঁড়ি হাতে গাছিদের পাতিল নামাতে দেখা এ দৃশ্যটা যেন গ্রামের চিরচেনা আনন্দ। আগে আমরা নিজেরাই গাছ কাটতাম, কিন্তু বয়স হয়ে যাওয়ায় আর পারিনা। এখন রাজশাহী থেকে আসা গাছিরাই সব গাছ কাটে।

রাজশাহী জেলা থেকে আসা গাছি আ. লতিফ মিয়া জানান, সময়মতো গাছ পরিষ্কার ও কাটা না হলে রস জমে না। রসের পরিমাণ ও মান অনেকটাই নির্ভর করে গাছের পরিচর্যা ও দক্ষতার ওপর। 

তিনি আরও বলেন, এই কাজের ঝুঁকি অনেক। মাঝেমধ্যে অনেকে গাছ থেকে পড়ে আঘাতও পান। তারপরও বছরের এই সময়টায় আমরা জীবিকার তাগিদে দিনরাত খেটে যাই। একটি গাছ থেকে পুরো সিজনে গড়ে ৮-১০ কেজি রস পাওয়া যায়। সেই রস থেকে আমরা গুড়, পাটালি তৈরি করে বাজারে বিক্রি করি। সবই খাঁটি ও ভেজালমুক্ত।

স্থানীয়দের মতে, খেজুরের রস ও গুড় শুধু শীতের খাবার নয়, এটি এ অঞ্চলের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্মৃতির অংশ। ভাপা পিঠার সঙ্গে টাটকা রস খাওয়ার জন্য ভোরে অনেকেই গাছিদের বাড়ি বা রসের হাঁড়ির পাশে ভিড় করেন। ভেজালমুক্ত গুড়ের চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে এবং সখীপুরের গুড় অঞ্চলজুড়ে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। 

রাজশাহী থেকে আসা গাছি শরিফ দেশ রূপান্তরকে জানান, খেজুরের রস থেকে তৈরি পাটালি ও গুড় বিক্রি শুরু হয়েছে। বাজারে নতুন মৌসুমের গুড়ের চাহিদাও বেড়েছে। রস ৩০০ টাকা এবং গুড় ৩৫০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। গুড়ের মান ভালো। 

শীত যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে গাছিদের কর্মব্যস্ততা। ভোর রাতেই তারা গাছ থেকে রসের পাতিল নামিয়ে আনেন এবং আবার নতুন পাতিল বসানোর প্রস্তুতি নেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত