২০০৫ সালে বাংলাদেশ যাবে ইংল্যান্ডে খেলতে। আমি, ফারুক (আহমেদ), প্রিন্স (গোলাম নওশের) আর ডেভ হোয়াটমোর (তৎকালীন কোচ) মিলে সিলেকশন প্যানেল। ফারুক প্রধান নির্বাচক। উইকেপকিপার খালেদ মাসুদ পাইলটের ব্যাকআপ হিসেবে ১৮ বছরের মুশফিককে নেয় হয়েছিল দলে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে বেশ কয়েকটা ট্যুর ম্যাচ ছিল (ব্রিটিশ ইউনিভার্সিটিস, সাসেক্স ও নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে)। মুশফিক সেই ট্যুর ম্যাচগুলোতে বেশ রান করছিল। ভাল ব্যাটিং করছিল, উইকেটের চারপাশে শট খেলছিল। তখন আমাদের মনে হচ্ছিল ওকে একটা সুযোগ দেয়া দরকার। আমি ফারুককে বললাম যে ‘চীফ, এই ছেলে তো বেশ রান করছে। আমাদের মনে হয় ওকে একটা সুযোগ দেয়া উচিত’। তখন আমাদের একজন ব্যাটসম্যান দরকার ছিল মিডল অর্ডারে। একটা ম্যাচে ও বেশ ভাল রান করল, সাসেক্সের বিপক্ষে ব্যাট করল প্রায় ২ ঘন্টা ধরে আর হাফসেঞ্চুরি করল (৬৩)। ঐ ম্যাচে বাকিরা কেউ খুব একটা রান করেনি। এরপর নর্দাম্পটনে সে একটা সেঞ্চুরি করল (১১৫*), তখন মনে হয়েছে এই ছেলেকে এখন একটা সুযোগ দিতেই হবে।
মুশফিক যখন অভিষেক ইনিংসে ব্যাট করছে, তখন আমি মাইক্রোফোনে। আমি স্কাই টিভির হয়ে ধারাভাষ্য দিচ্ছি। ধারাভাষ্যকক্ষে ডেভিড লয়েড, ইয়ান বোথাম। মুশফিক প্রথম বলটা নিখুঁতভাবে রক্ষণাত্মক ভঙ্গীতে খেলল। মাথা, পা সব নির্ভুল পজিশনে। দেখে আমি লয়েডকে বলেছিলাম যে এই ছেলে অনেকদূর যাবে। ২০০৫ এর টেস্ট অভিষেকে লর্ডসে ওর ইনিংসটা খুব একটা বড় ছিল না, তবে অল্প সময়ের ব্যাটিংয়েই বুঝিয়ে দিয়েছিল যে ওর মধ্যে সেই বারুদটা আছে আমরা যা খুঁজছিলাম। ইংল্যান্ডের সেই বোলিং অ্যাটাক, যারা অ্যাশেজ জিতিয়েছে, তার চেয়ে দ্বিগুণ লম্বা সবাই! সেই হার্মিসন, হগার্ড, সাইমন জোন্স, ফ্লিনটফ। তাদের বিপক্ষে ইংলিশ কন্ডিশনে রান করতে যে পারে, তাকে সুযোগ দিলে অনেক ভাল করবে এটাই ছিল আমাদের বিশ্বাস।
মুশফিকের অভিষেক টেস্টে আমি ধারাভাষ্যে ছিলাম, ১০০ তম টেস্টেও থাকব। এটা আমার জন্য খুবই সৌভাগ্যের। আমি নিজেকে খুবই সৌভাগ্যবান মনে করি যে এরকম একজন ক্রিকেটারের শুরুর সময়ে আমি ছিলাম।
