ডিমের কুসুমের রঙ নিয়ে বাজারে নানা আলোচনা চলে। কেউ বলে কমলা কুসুম বেশি পুষ্টিকর, আবার কেউ মনে করেন হলুদ কুসুমও সমান উপকারী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পার্থক্য মূলত কুসুমের রঙের ওপর নয়, বরং মুরগির খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। আসুন জানি, কমলা আর হলুদ কুসুমের পুষ্টিগুণের বাস্তবতা কী।
১. কুসুমের রঙের পেছনের কারণ
ডিমের কুসুমের রঙ নির্ভর করে মুরগির খাবারের ধরনে। ভুট্টা, গাজর বা সবুজ ঘাস খেলে কুসুম হয় গাঢ় কমলা। সাধারণ শস্য খেলে কুসুম থাকে হালকা হলুদ। অর্থাৎ রঙের পার্থক্য পুষ্টিগুণের বড় ফারাক নির্দেশ করে না।
২. প্রোটিন ও ভিটামিন
কমলা বা হলুদ—উভয় কুসুমেই আছে প্রোটিন, ভিটামিন এ, ডি, ই, বি-১২ এবং গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল। তাই পুষ্টিগুণের দিক থেকে রঙের তফাৎ খুব সামান্য। খাদ্যতালিকায় ডিম রাখলে উভয়ই শরীরকে শক্তি দেয়।
৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সামান্য পার্থক্য
কমলা কুসুমে কিছুটা বেশি ক্যারোটিনয়েড থাকতে পারে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। কিন্তু এই পার্থক্য অত্যন্ত সামান্য। অর্থাৎ স্বাভাবিক দৃষ্টিকোণে বলা যায়—উভয় কুসুমই স্বাস্থ্যকর।
৪. কৃত্রিম রঙের ব্যবহার থেকে সতর্কতা
কিছু খামারে কুসুমের রঙ বাড়াতে কৃত্রিম রঙ ব্যবহার করা হয়। এটি স্বাস্থ্যসম্মত নয়। তাই ডিম কেনার সময় বিশ্বস্ত উৎস বেছে নেওয়া জরুরি।
৫. সঠিক ডিম নির্বাচন
রঙের চাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো—ডিমের তাজাতা, খামারের ধরন ও প্রাকৃতিক খাবার। দেশি মুরগির ডিম সাধারণত বেশি পুষ্টিকর এবং তাজা থাকে।
উপসংহার
ডিমের কুসুমের রঙ—কমলা বা হলুদ—পুষ্টিগুণে খুব বড় ফারাক করে না। বরং সতেজতা, খামারের মান ও প্রাকৃতিক খাদ্য নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই রঙের দিকে নজর না দিয়ে, সঠিক উৎস থেকে ভালো মানের ডিম বেছে নিন। এতে আপনি পাবেন স্বাস্থ্যসম্মত ও শক্তি জোগানো একটি খাবার—যে রঙেরই হোক না কেন।
