বাঁশখালীতে ১১ জন‌কে পুঁড়ি‌য়ে মারার ২২ বছর পূর্ণ হল আজ

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৫৫ পিএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সাধনপুরের শীলপাড়ায় ১১ জনকে পুঁড়িয়ে মারার ২২ বছর পূর্ণ হল আজ। ২০০৩ সালের ১৮ নভেম্বরে বর্বরতম এ ঘটনা ঘ‌টে। সে‌ সময় নিহত তে‌জেন্দ্র শী‌লের ছেলে বিমল কান্তি সুশীল বাদী হয়ে থানায় মামলা করলেও আজও এর কোনো বিচার পাওয়া যায়নি। 

এদিকে দিনটি স্মরণ করে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকা‌লে নিহ‌তদের স্মর‌ণে নি‌র্মিত স্মৃ‌তি ম‌ন্দি‌রে ফুল দি‌য়ে শ্রদ্ধা জানা‌য় নিহতদের স্বজনরা। এ সময় নিহত তে‌জেন্দ্র শী‌লের ছেলে সুনীল‌ কা‌ন্তি সুশীল, বিমল কা‌ন্তি সুশীল, ভাই শচীন্দ্র শীল, বাবুল কা‌ন্তি সুশীলসহ প‌রিবা‌রের সদস‌্যরা উপ‌স্থিত ছি‌লেন।

বাদী বিমল কান্তি সুশীল ব‌লেন, দেখতে দেখতে ২২ বছর পার হয়েছে,আর কতদিন লাগবে স্বজন হারা ১১জনের বিচার পেতে ?

২০০৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে বাঁশখালীর সাধনপুর ইউনিয়নের শীলপাড়ায় তেজেন্দ্র লাল শীলের বাড়িতে একই পরিবারের ১১ জনকে পুড়িয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। সে ঘটনায় নিহতরা হলেন তেজেন্দ্র লাল শীল (৭০), তার স্ত্রী বকুল বালা শীল (৬০), ছেলে অনিল কান্তি শীল (৪২) ও তার স্ত্রী স্মৃতি রাণী শীল (৩০), তাদের মেয়ে মুনিয়া শীল (৭) ও রুমি শীল (১১), চারদিনের শিশু কার্তিক শীল, তেজেন্দ্র শীলের ছোট ভাই শচীন্দ্র শীলের মেয়ে বাবুটি শীল (২৫), প্রসাদী শীল (১৭),অ্যানি শীল (১৫) এবং বান্দরবান থেকে বেড়াতে আসা তেজেন্দ্র শীলের বেয়াই দেবেন্দ্র শীল (৭৫)।

শুরুকে এ হত্যা মামলার বাদী ছি‌লেন নিহত তেজেন্দ্র শীলের ছেলে বিমল কান্তি সুশীল হলেও পরবর্তীতে সেটা সরকার বাদী মামলাতে পরিনত হয়। মামলায় ৩৭ জন আসামির মধ্যে ২৪ জন জেলে গেলেও প‌রে তারা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে মুক্ত জীবন যাপন করছে। অপর পলাতক আসামিরা ও নানাভাবে জামিন নিয়ে বর্তমানে মুক্ত। মামলায় সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তাসহ ৫৭ জনকে স্বাক্ষী থাক‌লেও দীর্ঘ ২২ বছরে ২৮ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষী নেওয়া সম্ভব হয়, কিন্তু নানা অজুহাতে বাকিদের সাক্ষ্য নেওয়ার আর সু‌যোগ হয়নি।

এ বিষয়ে বিমল কান্তি শীল বলেন, দীর্ঘ সময় মামলার পেছনে সময় দিতে দিতে আর পেরে উঠছি না। স্বাক্ষীদের সবার স্বাক্ষী এখনও শেষ হয়নি। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটু খারাপ হওয়াতে মামলার অগ্রগতি নিয়ে ও তেমন সময় দিতে পারেনি। অনেক মামলা এক বছ‌রে শেষ হ‌চ্ছে অথচ আমা‌দের বাবা-মাসহ ১১ জনের হত‌্যার বিচার প্রক্রিয়া পর্যন্ত শেষ হল না ব‌লে আক্ষেপ ক‌রেন তিনি।

তি‌নি ব‌লেন, রাজনী‌তি‌বিদ ও প্রশাসন এক সময় আমা‌দের সার্বক্ষ‌ণিক নজর‌দা‌রিসহ সহ‌যো‌গিতা কর‌লেও আজ‌কের দি‌নে কেউ খবর নি‌চ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত