দৃষ্টি অন্যদিকে ব্যস্ত রেখে তারাহুরো করে গোপনে চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে ইজারা চুক্তি দেশ ও জনগণের সাথে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মন্তব্য করেছে ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চার নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বেলা ১২টায় কমরেড আ ফ ম মাহবুবুল হক মিলনায়তনে মোর্চার সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তীর সভাপতিত্ব এক বৈঠকে নেতৃবৃন্দ এই দাবি করেন।
বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন বাংরাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ’র সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূঁইয়া, গণমুক্তি ইউনিয়নের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন আহম্মদ নাসু, বাংলাদেশের সোস্যালিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মনজুরুল আলম মিঠু, অনলাইনে যুক্ত থেকে বক্তব্য রাখেন বাসদ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মহিনউদ্দিন চৌধুরী লিটন প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সোমবার (১৭ নভেম্বর) শেখ হাসিনার রায়ের দিন মানুষের দৃষ্টি কে ব্যস্ত রেখে তারাহুরো করে গোপনে ডেনমার্কের সাথে বন্দর ইজারা চুক্তি করেছে। যা দেশ-জাতি ও রক্তস্নাত ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের সাথে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। একইসাথে সরকার যে সংবিধানের ভিত্তিতে শপথ নিয়েছে সে সংবিধান তো বটেই তাদের নিজেদের তৈরি সংবিধান সংস্কার কমিশনের রিপোর্টের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের রিপোর্টেও বলা হয়েছে জনগণের সম্মতি ছাড়া বিদেশীদের সাথে কোন চুক্তি করা যাবে না। এই সরকারের ভাষার প্রয়োগও সেই ফ্যাসিষ্ট কায়দায় ‘সন্ত্রাসীদের দেখা মাত্র গুলি’। ব্যবহার থেকে শুরু করে দেশের স্বার্থের বিপরীতে স্বদেশকে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের লীলাভূমিতে পরিণত করার সুযোগ সৃষ্টি করতে এধরণের চাতুর্যপূর্ণ প্রতারণার ক্ষেত্রে অতীতের সকল স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্টকে হার মানিয়েছে ইউনুস সরকার। জনগণের সাথে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও প্রতারণা করে অতীতে কোন সরকারই ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। এই সরকারও এই ভাবে এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে ও প্রতারণামূলক দেশবিরোধী চুক্তি করে ক্ষমতায় থাকার অধিকার হারিয়েছে। জনগণ দেশবিরোধী প্রকাশ্য-গোপন কোন চুক্তি মেনে নেবে না। অবিলম্বে সমস্ত অনৈতিক গোপন চুক্তি বাতিল ও প্রকাশ করতে হবে। একইসাথে জনগণকেও দেশের স্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ রুখে দাঁড়াতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
