ঢাকার কেরানীগঞ্জে বাড়িওয়ালার সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের জেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ভাড়াটিয়া মো. রাব্বি (২২)। আজ মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোহাম্মদ আক্তার হোসেন।
ওসি জানান, গতকাল রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার তেঘরিয়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর কান্দাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাব্বি পিরোজপুর জেলার কাউখালি থানার দাসেরকাঠি গ্রামের বিল্লাল মিয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে আব্দুল্লাহপুর কান্দাপাড়া এলাকার ওসমান মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
তিনি আরও জানান, গলায় ফাঁস দেওয়া রাব্বির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়রা জানান, দেড় মাস আগে দম্পতিটি ওসমান মিয়ার বাড়িতে ভাড়া আসেন। এখানে আসার পর থেকেই বাড়িওয়ালা ওসমানের সঙ্গে নাদিয়ার পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি হয়।
বিষয়টি জানার পর রাব্বির সঙ্গে তার স্ত্রী নাদিয়ার নিয়মিত ঝগড়া হত। রাব্বি মাস শেষে বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কিন্তু নাদিয়া বাড়ি ছাড়তে রাজি ছিলেন না। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে নাদিয়া ঘর থেকে বের হয়ে গেলে, ফাঁকা ঘরে রাব্বি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
এলাকাবাসী আরও জানান, ওসমান মিয়া এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি অর্থবিত্তের জোরে এমন ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তার পরকীয়ার কারণে একটি মায়ের বুক খালি হয়ে গেল।
এর আগেও তিনি একটি ছোট মেয়ের সঙ্গে অসামাজিক কাজ করে পরে টাকা দিয়ে বিষয়টি চাপা দেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। ফাঁসের ঘটনাটিও ধামাচাপা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে তারা দাবি করেন।
নিহতের স্ত্রী নাদিয়া আক্তার স্থানীয়দের পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তিন মাস আগে আমরা প্রেম করে বিয়ে করেছি।
মাঝে মাঝে আমাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হতো। সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়া করে রাব্বি গলায় ফাঁস দিয়েছে। আমাদের এত সাধের বিয়ে, এখন আমি কার সঙ্গে থাকব!”
এ বিষয়ে জানতে ওসমান মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
