অপসোনিনে শ্রমিকদের দ্বন্দ্ব, ১৮ দিন ধরে স্থবির বগুরা রোড

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৮ পিএম

বরিশালের অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যালে স্টোরিপ্যাক বিভাগের ৪৪৪ শ্রমিক ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা টানা ১৮ দিন ধরে বগুরা রোড অবরোধ করে রেখেছেন।

মঙ্গলবার সকালে কাজে যোগ দিতে আসা শ্রমিকদের বাধা দেওয়ায় ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এখনও তারা সড়ক অবরোধ করে অবস্থান করছেন।

ফ্যাক্টরির সামনের তিনটি মোড় আটকে দেওয়ায় পুরো বগুরা রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। স্কুল–কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বগুরা রোডসংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার অনিন্দ কুমার সরকার জানান, শ্রম আইন মেনে স্টোরিপ্যাক বিভাগের ৪৪৪ জন শ্রমিককে অবসান দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক শ্রমিক পাওনা বেতন বুঝে নিয়েছেন। তবে কিছু শ্রমিক ও বহিরাগতরা অন্যান্য বিভাগের শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধা দিচ্ছেন।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, উৎপাদন বন্ধ থাকায় ডেঙ্গুর সময়ে স্যালাইন সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে কাজে যোগ দিতে চাওয়া আইভি ফ্লুইড বিভাগের শ্রমিকরা জানান, সকালে ফ্যাক্টরিতে ঢোকার সময় আন্দোলনকারীরা তাদের বাধা দিয়েছে। যাদের চাকরি বহাল আছে, তারা যেন নির্বিঘ্নে কাজে যোগ দিতে পারেন—এ দাবিও তারা জানান।

শ্রমিক সুমন বলেন, “আমাদের কোম্পানি কাজে যোগ দিতে বলেছে, কিন্তু চাকরিচ্যুতরা আমাদের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। বহিরাগতরাও আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। ডেঙ্গুর সময় স্যালাইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ভোর ৬টায় আসার পরই আঘাতের শিকার হয়েছি। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সমাধান চাই।”

অপর শ্রমিক মৌদুত আহমেদ বলেন, “১৭ দিন ধরে রাস্তা বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে ফ্যাক্টরি চালানো সম্ভব নয়। প্রায় এক হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে আছে। কোম্পানি যাদের ছাঁটাই করেছে, তাদের অনেককে পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরও বহিরাগতদের নিয়ে বিক্ষোভ চলছে।”

চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের সংগঠন ওএসএল ফার্মা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, “চাকরি পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

ফ্যাক্টরির পাশের বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, চৈতন্য স্কুল, বটতলা হালিমা খাতুন বালিকা বিদ্যালয়সহ নগরবাসী প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিনের অবরোধে তাদের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত