পদ্মা নদী সাঁতরিয়ে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা, দুই যুবক আহত

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:২৯ পিএম

ভোলা-বরিশাল নৌরুটে সেতুর দাবি জানিয়ে পায়ে হেটে ঢাকামুখী লংমার্চ করেছে একদল তরুণ। তবে হেটে পদ্মা সেতু পাড়ি দেওয়ার অনুমতি না দেওয়ায় তারা নদী সাতরিয়ে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় দুই জন অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

লংমার্চকারীরা জানায়, ভোলা-বরিশাল রুটে সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপজেলা ভোলাবাসী ভোগান্তির শিকার হচ্ছিল। কেউ গুরুতর অসুস্থ হলেও সেতুর অভাবে সময়মতো বরিশাল পৌঁছানো সম্ভব হতো না। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হলেও তাতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

পরে সেতু নির্মাণের দাবিতে ভোলার ২০ যুবক পায়ে হেটে ঢাকার সেতুভবন পর্যন্ত লংমার্চের সিদ্ধান্ত নেন। গত ১১ নভেম্বর ভোলার চরফ্যাশন টাওয়ার থেকে তারা পদযাত্রা শুরু করেন। লংমার্চের অষ্টম দিনে বুধবার দুপুরে পদ্মা সেতুর শরীয়তপুর জাজিরা প্রান্তে উপস্থিত হন। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ায় ৬ কিলোমিটার পদ্মা নদী সাতরিয়ে পাড় হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের মধ্যে ১০ জন সাতর শুরু করলে কিছুদূর এগোনোর পর নোমান হাওলাদার ও তানজিম নামের দুই যুবক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চর এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

নোমান হাওলাদারসহ লংমার্চকারী দলের সদস্যরা বলেন, “উপদেষ্টা মহোদয়গণ ৩ মাস আগে আমাদের একটি প্রতিনিধি টিমকে মন্ত্রণালয়ে ডেকেছিলেন। বিভিন্ন আলোচনা শেষে তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে ভোলা-বরিশাল সেতুর কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি ভোলা স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে তারা কাজ করবেন এবং ভোলার পাঁচ দফা দাবি মানবেন। কিন্তু সময় গেলেও আমাদের দাবি বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সামনে নির্বাচন, নির্বাচনের পর আমাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পদক্ষেপ থাকবে না। আমরা চাই, নির্বাচন তফসিল ঘোষণার আগে এই সরকার আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরু করুক। যেহেতু আমাদের সমস্যা সমাধানে তারা সহযোগিতা করেনি, তাই বাধ্য হয়ে আমরা নদীতে নেমেছি। আমরা ঢাকা পর্যন্ত লংমার্চ করব। একটি সেতুর জন্য আমাদের ২৮০ কিলোমিটার পারি দিতে হয়েছে, আরও ১০০ কিলোমিটার পারি দিতে হবে। আমরা তিনটি নদী সাতরিয়েছি, এখন পদ্মা নদী পাড়ি দিতে হচ্ছে। এতে যদি কোনো সহযোদ্ধা অসুস্থ হয় বা শহীদ হয়, দায় থাকবে উপদেষ্টা ও সরকারের।”

তাদের দাবি, “আমরা আশা করি প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস মহোদয় ভোলার এই সমস্যা সমাধান করবেন।”

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল আরেফীন বলেন, “তারা হেটে পদ্মাসেতু পার হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেননি। তাই কিছু লোক পদ্মা নদী সাতরিয়ে চড়ে উঠেছে। এখনো তারা নদী পাড়ি দিয়ে মুন্সিগঞ্জ পৌঁছায়নি। পরিস্থিতি লক্ষ্য করা হচ্ছে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত