আশুলিয়ার ৬ তরুণকে গুলি করে হত্যার পর তাঁদের মরদেহ পোড়ানোসহ ৭ জনকে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আজ রাজসাক্ষী এসআই শেখ আবজালুল হকের জেরা শুরু হচ্ছে। সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ আসামিকে ঘিরে বিচারিক প্রক্রিয়ার এ গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন প্যানেলে শুরু হবে। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ উভয়ই আজ তাকে জেরা করবে।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চে আরও আছেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। প্রসিকিউশন জানাচ্ছে, আবজালুলের জেরা শেষে আরও কয়েকজন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হতে পারে। সব মিলিয়ে আগামী মাসের মাঝামাঝি সাক্ষ্যগ্রহণের কাজ শেষ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।
গতকাল বুধবার ২৩তম সাক্ষী হিসেবে আদালতে যান আবজালুল। রাজসাক্ষী হিসেবে ‘পূর্ণ সত্য’ জানানোর কথা থাকলেও তার জবানবন্দিতে বেশ কিছু তথ্য অনুপস্থিত বলে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে প্রসিকিউশন বলছে, তিনি তাঁর জানা সবকিছুই বলেছেন। প্রায় ৫০ মিনিটের সাক্ষ্যে তিনি জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট থানার সামনে মরদেহ পোড়ানোর ঘটনা সরাসরি তিনি দেখেননি; ১৫ আগস্ট থানায় অস্ত্র–গুলি জমা দিতে গেলে সহকর্মীদের মুখে শোনেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সেদিন ঘটনাটি ঘটান ওসি সায়েদ ও এএসআই বিশ্বজিৎ। জবানবন্দির শেষে ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমাও চান তিনি।
চলতি বছরের ২১ আগস্ট ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। উপস্থিত আট আসামির ৭ জন নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও দোষ স্বীকার করেন আবজালুল। পরবর্তীতে তিনি লিখিতভাবে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন এবং আদালত তা গ্রহণ করে। তার দোষ স্বীকারোক্তির অংশ রেকর্ডও করা হয়।
নির্ধারিত সময়েও কয়েক দফা সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়নি। ১৮ ও ১২ নভেম্বর সাক্ষী হাজির না হওয়ায় কার্যক্রম স্থগিত ছিল। ৫ নভেম্বর ২২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সজিব নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী আদালতে বলেন, তাঁর চোখের সামনে এক ব্যক্তি গুলিতে নিহত হন এবং তার বন্ধু সজলকেও আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়।
এর আগে ৩০ অক্টোবর গুলিবিদ্ধ ভুক্তভোগী সানি মৃধা ২১ নম্বর সাক্ষী হিসেবে নিজের ওপর হামলার বিবরণ দেন। একইদিন জব্দতালিকার সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আশুলিয়া থানার এসআই আশরাফুল হাসান, যিনি বলেন, চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল তিনি ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে থানায় জমা দেন।
১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম দিনের সাক্ষ্য দেন শহীদ আস সাবুরের ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম এবং শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা খলিলুর রহমান। এর আগে সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ৫ আগস্ট আশুলিয়ার ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
প্রসিকিউশন গত ২ জুলাই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়। মোট ৩১৩ পৃষ্ঠার দালিলিক উপকরণ, ৬২ জন সাক্ষী, ১৬৮ পৃষ্ঠার প্রমাণাদির পাশাপাশি দুটি পেনড্রাইভ জমা দেওয়া হয়। পরে ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
মামলায় গ্রেপ্তার আটজন হলেন—ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল ও কনস্টেবল মুকুল। সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ বাকি আটজন এখনও পলাতক।
গত বছরের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছয় তরুণ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। পরে তাঁদের মরদেহ পুলিশ ভ্যানে তুলে পুড়িয়ে ফেলা হয়। ঘটনায় এক তরুণ জীবিত থাকলেও তাকেও পরে আগুনে হত্যা করা হয়—পেট্রোল ঢেলে। ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।
সুদানের গৃহযুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ ট্রাম্পের