উড়ালসড়ক থেকে প্রাইভেট কার ছিটকে পড়ে সাইকেল আরোহী নিহত

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৩৯ পিএম

নগরের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (উড়ালসড়ক) থেকে একটি প্রাইভেট কার ছিটকে নিচে পড়ে মোহাম্মদ শফিক নামে একজন সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। 

আহত হয়েছেন ওই গাড়ির চারজন আরোহী। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নিমতলা এলাকায় বন্দর থানার সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ট্রাফিক পুলিশ জানায়, গুরুতর আহত পাঁচজনের মধ্যে পথচারী মো. শফিককে (৫৫) নগরের আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

এছাড়া আহত এক তরুণীসহ চারজনকে বারিক বিল্ডিং মোড়ে ইসলামী ব্যাংকে ভর্তি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানিয়েছে, প্রাইভেট কারটি বিমানবন্দর দিক থেকে শহিদ ওয়াসিম আকরাম উড়ালসড়কের (চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) ওপর দিয়ে আগ্রাবাদের দিকে যাচ্ছিল। 

নিমতলা মোড় অতিক্রম করার সময় এটি এক্সপ্রেসওয়ের রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে যায়।

বন্দর ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক (টিআই) আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “তীব্র গতির একটি প্রাইভেট কার হঠাৎ এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ছিটকে নিচে সড়কে পড়ে যায়।”

নগরের সহকারী পুলিশ কমিশনার (বন্দর) মাহমুদুল হাসান বলেন, “গাড়িটি যে স্থান থেকে ছিটকে পড়েছে, সেখানে বাঁক রয়েছে। 

এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ের ওপর দিয়ে তীব্র গতিসম্পন্ন গাড়িটি নিচে পড়ে যায়।”

গত বছরের আগস্ট মাসে পরীক্ষামূলক চালুর পর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান দুই মোটরসাইকেল আরোহী। চলতি নভেম্বর মাসেও দুটি প্রাইভেট কার উল্টে গেছে। 

মূলত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, চালকদের গতিসীমা না মানা এবং বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে নির্ধারিত গতিসীমা মানছেন না চালকরা। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মোটরসাইকেল চলাচল করছে। জানা গেছে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা ৬০ কিলোমিটার। 

বাঁকসমূহে সর্বোচ্চ গতিসীমা ৪০ কিলোমিটার। এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি থামানো বা উঠানামা করা নিষিদ্ধ। 

পরীক্ষামূলক যান চলাচলের সময় সাময়িকভাবে ট্রাক, বাস, সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বর্তমানে দেদার চলছে মোটরসাইকেল।

এছাড়া এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলকারী গাড়ির অধিকাংশই সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস। এসব গাড়ি গতিসীমা মানছে না। 

কোথাও গতিমাপের যন্ত্র বা ক্যামেরা নেই। কিছু স্থানে গতিরোধক থাকলেও চালকরা নির্ধারিত গতির চেয়ে দ্রুত গাড়ি চালাচ্ছেন। লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ১৫.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই এক্সপ্রেসওয়ের দেওয়ানহাট, বারিক বিল্ডিং, সল্টগোলা, ইপিজেড ও কাঠগড় এলাকায় বাঁক রয়েছে। 

বাঁকগুলোতেও গাড়ির গতি কমানোর প্রবণতা চালকদের মধ্যে কম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত